রাঙ্গালিবাজনা, ১৯ অক্টোবরঃ জেলা জুড়ে বেআইনিভাবে বালি বজরির ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযানে নামল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। শনিবার আলিপুরদুয়ারের বারোবিশা, নিমতি, বীরপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় সারাদিন ধরে অভিযান চালিয়ে পঁচিশটি বালি বজরি বহনকারী ট্রাক ও ডাম্পার  আটক করল প্রশাসন।আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মীনা বলেন, ‘ট্রাক ও ডাম্পারগুলিকে পুলিশের তত্বাবধানে দেওয়া হয়েছে’।
আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে বালি বজরির অবৈধ ব্যবসা দীর্ঘদিনের। বালি বজরির বৈধ ইজারাদারদের বক্তব্য, অবৈধ কারবারিদের জন্য যেমন বৈধ ব্যবসায়ীদের লোকসান হচ্ছে, তেমনই সরকার  রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, শনিবার পথে নামেন ডিএল এণ্ড এলআরও, ডেপুটি ডিএল এণ্ড এলআরও, এসডি এণ্ড এলআরও,  বিএল এণ্ড এলআরও পদমর্যাদার আধিকারিকরা। বালি বজরির বৈধ কারবারিরা জানান, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন এলাকার নদীগুলি থেকে বালি বজরি তুলে বিক্রি করে বালি মাফিয়ারা।  অনেক সময় দামের হেরফের হওয়ায় জেনেশুনেই  অনেকে বেআইনিভাবে তোলা বালি বজরি কেনেন। আবার, অনেকের  বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকায় বেআইনিভাবে তোলা বালি বজরি কিনে নেন। সরকারিভাবে ইজারাদারদের নির্দিষ্ট কিছু নদী থেকে বালি বজরি তোলার অনুমতি রয়েছে । অথচ, বালি বজরির কারবারিরা সেসবের তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছেমতো যে কোনো নদী থেকেই বালি বজরি তুলে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ। মাদারিহাটের ডিমডিমা, সুকতি, তিতি, বাংরি, পাগলির মতো কিছু নদী থেকে বালি বজরি তুলে বিক্রি করার অনুমতি পান বৈধ ইজারাদাররা । অথচ, অবৈধ কারবারিরা যত্রতত্র বালি বজরি তোলেন বলে অভিযোগ । আবার,  যে নদীগুলি থেকে বালি বজরি তোলার অনুমতি রয়েছে সেগুলি থেকেও অনেক মাফিয়া বালি বজরি তুলে বিক্রি করে বলে অভিযোগ। এর আগে ফালাকাটা থানার উদ্যোগে প্রচুর অবৈধ বালি বজরি বহনকারী ট্রাক ও ট্রাক্টর আটক করা হয়।  মাদারিহাটের এক বালি বজরির ইজারাদার সোহেল রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই । এভাবে অভিযান চললে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া বন্ধ হবে । লাভবান হব আমরাও’।