রাজ্যে ২৫০ র‌্যাশন ডিলার বরখাস্ত হচ্ছেন

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : লকডাউন চলাকালীন র‌্যাশনের সামগ্রী বিলিতে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য সরকার প্রায় ২৫০ র‌্যাশন ডিলারকে বরখাস্ত করতে চলেছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের ৬৫-৭৫ জন র‌্যাশন ডিলার রয়েছেন। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক একথা জানান।

প্রায় ২৫০ র‌্যাশন ডিলারকে সরানো হবে বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে সমস্ত এলাকা থেকে এই ডিলারদের সরিয়ে দেওয়া হবে সেখানে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দপ্তর নতুন ডিলার নিয়োগ করবে। ডিলার নিয়োগের জন্য তার আগে নিয়ম মেনে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। তবে গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগবে। তাই যে সমস্ত এলাকা থেকে ডিলারদের সরানো হবে সেই জায়গায় র‌্যাশন সামগ্রী বণ্টনের দায়িত্ব পাশের এলাকার র‌্যাশন ডিলাররা সামলাবেন। করোনা ভাইরাসের দাপট ঠেকাতে লকডাউনের সময় র‌্যাশন সামগ্রী বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মহল সরব হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক র‌্যাশন ডিলারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সেই অভিযোগ সত্যতা পেল বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

- Advertisement -

লকডাউনের সময় র‌্যাশন সামগ্রী বণ্টনে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যজুড়ে ৭৬১ জন র‌্যাশন ডিলারকে শোকজ, জরিমানা, সাসপেন্ড করার পাশাপাশি কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে খাদ্যমন্ত্রী জানান। ৭৬১ জনের মধ্যে ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে বেশি মাত্রায় অভিযোগ ছিল। সংশ্লিষ্ট র‌্যাশন ডিলারদের বিরুদ্ধে তাঁদের জেলায় হিয়ারিং হয়েছে। প্রক্রিয়াটি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। ৩৫০ জনের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন র‌্যাশন ডিলারকে বরখাস্ত করা হতে পারে। তাঁদের মধ্যে উত্তরবঙ্গের ৬৫-৭৫ জন র‌্যাশন ডিলার থাকতে পারেন। যে সমস্ত ডিলারকে সরানো হবে তাঁদের দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার র‌্যাশন দোকানগুলিকে জুড়ে দেওয়া হবে।

লকডাউনে এপ্রিল মাস থেকে রাজ্যজুড়ে তিন মাসের বিনামূল্যে র‌্যাশন দেওয়ার কর্মসূচি শুরু হয়। তবে এই কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন জেলায় নানা সমস্যা দেখা দেয়। অভিযোগ-পালটা অভিযোগে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে ওঠে। এপ্রিল মাসেই রাজ্যের ২৬৩ জন র‌্যাশন ডিলারের বিরুদ্ধে খাদ্য দপ্তরের কাছে অভিযোগ জমা পড়ে। পরের মাসগুলিতে অভিযোগের মাত্রা আরও বাড়ে। সবমিলিয়ে ৭৬১ জন র‌্যাশন ডিলারের কারও বিরুদ্ধে চাল চুরি, আবার কারও বিরুদ্ধে র‌্যাশনে কম পরিমাণে সামগ্রী দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রাজ্য সরকার অবশ্য গোড়া থেকেই শক্ত হাতে বিষয়টিকে সামলেছে। অভিযুক্ত র‌্যাশন ডিলারদের শোকজ, জরিমানা, সাসপেন্ড করার পাশাপাশি কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বেশি পরিমাণে অনিয়ম করায় এবারে ২৫০ জন র‌্যাশন ডিলারের বিরুদ্ধে দপ্তর চড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। তবে ডিলারদের সরিয়ে দেওয়ার পর ওই এলাকার উপভোক্তারা র‌্যাশন সামগ্রী জোগাড়ে নিশ্চিতভাবে সমস্যায় পড়বেন। তাই যে সমস্ত ডিলারকে সরানো হবে তাঁদের দোকানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার র‌্যাশন দোকানগুলিকে জুড়ে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।