কৃষকবন্ধু প্রকল্পের বাইরে ২৫ হাজার কৃষক

প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার : রাজ্য সরকারের তরফে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সুযোগসুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু জমির খতিয়ান না থাকায় আলিপুরদুয়ার জেলায় কৃষকবন্ধু প্রকল্পের বাইরে এখনও প্রায় ২৫ হাজার কৃষক রয়ে গিয়েছেন। তাঁরা সরকারি সুযোগসুবিধা পাচ্ছেন না। এ প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ার জেলা কৃষি দপ্তরের উপ অধিকর্তা (প্রশাসন) হরিশ রায় বলেন, প্রতিদিন ১৮০ জন কৃষককে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। গত বছর ক্যাম্প করে কৃষকদের খতিয়ান তৈরি করে দিয়েছি। ফলে ৪০ হাজারের বেশি কৃষককে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধায় আনতে পেরেছি। এর জন্য আমরা নিয়মিত প্রচার অভিযান চালাচ্ছি।

আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৯৫ জন কৃষক রয়েছেন। এই কৃষকদের একটা অংশ বনাঞ্চলের বাসিন্দা। অনেকে অল্প জমি চাষবাস করেন। গৃহপালিত পশুপালন করেন। কখনও আবার কৃষক ও শ্রমিক দুটি কাজই করেন। সরকারি হিসাবে তাঁদের সক্রিয় কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করা হয় না। কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করে যাঁরা সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁরাই সরকারি খাতায় সক্রিয় কৃষক। এই হিসেবে জেলায় ৬৫ হাজার সক্রিয় কৃষকের নাম নথিভুক্ত রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার ১০৯ জন কৃষকবন্ধু নিশ্চিত আয় প্রকল্পের আওতাভুক্ত রয়েছেন। বাকি প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এখনও কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ। তবে ৫৮ হাজার কৃষকের কিষান ক্রেডিট কার্ডে নাম নথিভুক্ত রয়েছে। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে ভোটার আইডি কার্ড, জমির খতিয়ান, আধার কার্ড, ব্যাংকের পাসবই লাগে। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের ফর্ম পূরণ মোবাইলের মাধ্যমেও করা যায়। কিন্তু জমির খতিয়ান না থাকায় কৃষকদের একটা বড় অংশ কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না।

- Advertisement -

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি ব্লকে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০টি আবেদন আসছে। প্রতিদিন ১৮০ জন করে কৃষকবন্ধুর সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি দপ্তরের তরফে এই বিষয়ে প্রচার অভিযানও চালানো হচ্ছে। মোবাইলের মাধ্যমে কৃষকবন্ধু প্রকল্পে নাম আওতাভুক্ত করা হচ্ছে। একবছর আগে বৃহৎ সংখ্যক কৃষকের নিজস্ব নামে জমির খতিয়ান ছিল না। তাঁদের কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিতে কৃষি দপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি ব্লকে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে ক্যাম্প করে কৃষকদের খতিয়ান তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও বহু কৃষকের খতিয়ান মেলেনি। কৃষক অভিজিৎ ঘোষ বলেন, অনেক কৃষকের এখনও জমির নিজস্ব খতিয়ান নেই। ফলে সরকারি সহায়কমূল্যে ধান বিক্রি সহ অন্যান্য সরকারি সুযোগসুবিধা কৃষকরা পাচ্ছেন না। সুজন বিশ্বাস নামে আরেক কৃষক বলেন, খতিয়ান তৈরি করতে অনেক সময় লাগছে। ফলে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।