সরকারি অনুমতি ছাড়াই চলছে ২৮ শতাংশ শিশু আবাস

253

নয়াদিল্লি : না আছে স্বীকৃতি, না আছে নজরদারি। দেশের ৭,১৬৩টি শিশুসুরক্ষা হোমের মধ্যে কমপক্ষে ২,০৩৯টির কোনও সরকারি শংসাপত্র নেই। অনুমোদন ছাড়াই এই ২৮.৫ শতাংশ চিলড্রেন হোমগুলি দিব্যি চলছে। অথচ ২০১৫ সালের নাবালক ন্যায় আইন অনুযায়ী শিশুসুরক্ষা আবাস চালাতে গেলে সরকারি নিবন্ধন আবশ্যিক। সম্প্রতি দেশের শিশু আবাস সংক্রান্ত সোশ্যাল অডিটে এই চিত্র ধরা পড়েছে। গত দুবছর এই সমীক্ষা চালানো হয়। ওই সমীক্ষায় শিশু আবাসগুলির বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে আরও করুণ চিত্র উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, বেশির ভাগ হোমে চূড়ান্ত অবহেলার মধ্যেই বেড়ে উঠছে শিশুরা। বেশির ভাগ হোমেই শিশু বিকাশের মতো পরিকাঠামো নেই। প্রশিক্ষিত কর্মী তো নেই-ই, সাজসরঞ্জাম, এমনকি লোকবলও নেই বহু আবাসে। ফলে সেখানে শিশুরা হেলাফেলায় বেড়ে উঠছে মাত্র, তাদের মানসিক কোনও বিকাশ হচ্ছে না। শিশু পরিচর্যার জন্য দায়বদ্ধ ওই আবাসগুলির মধ্যে ২,৭৬৪টিতে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হচ্ছে কি না তা দেখভাল করার কোনও ব্যবস্থাটুকুও নেই বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

আইন অনুযায়ী লোকবল নেই অধিকাংশ হোমের। মাত্র ৫২ শতাংশ হোমে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর রয়েছেন। ৪৯ শতাংশ হোমে হাউস ফাদার ও হাউস মাদার থাকায় সেগুলির অবস্থা স্বস্তিদায়ক। শিশুকল্যাণ আধিকারিক রয়েছেন মাত্র ২৬ শতাংশ (১,৮৮৩) হোমে। ৪৫.৫ শতাংশ (৩.২৫৬) হোমে খোঁজ মিলবে একজন মেডিকেল অফিসার বা চিকিৎসকের। তবে এঁদের একটা বড় অংশ ডাকলে আসেন। হোমে সর্বক্ষণ থাকেন না এঁরা। পরিকাঠামোর দিক থেকেও হোমগুলির অবস্থা শোচনীয়। ৬,০৯৪টি (৮৫ শতাংশ) হোমে একটি শিশুর জন্য একটি শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ১,০৬৯টি হোমে শয্যা ভাগ করতে হয় শিশুদের। শিশু আবাসগুলির ৯৫ শতাংশেই ডর্মিটরি ব্যবস্থা চলছে। বড় হলঘরে ঢালাও বিছানা পাতা। ৮৮ শতাংশ হোমে স্নানাগার এবং ৮২ শতাংশ হোমে শৌচাগার রয়েছে। বাকি হোমগুলিতে সেসব নেই। যদিও আইন অনুযায়ী এগুলো থাকা প্রাথমিক ও আবশ্যিক। আইন অনুয়ায়ী প্রতি ১০ জন শিশুর জন্য ন্যূনতম একটি স্নানাগার ও ৭ জন শিশুর জন্য একটি শৌচাগারের কথা বলা হলেও সেই অনুপাতে ১৫ শতাংশ (১,০৬২) হোমে স্নানাগার এবং ২১ শতাংশ (১,৫০৪) হোমে শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই।

- Advertisement -

সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে যে, ৫১২৪টি হোমের সরকারি স্বীকৃতি থাকলেও তা নেই ২,০৩৯টির। রাজ্যওয়াড়ি তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে যে, মহারাষ্ট্রের ৮৯ শতাংশ, হিমাচল প্রদেশের ৬২ শতাংশ, ত্রিপুরার ৫২ শতাংশ, দিল্লির ৪৭ শতাংশ, কেরলের ৪২ শতাংশ, তেলেঙ্গানার ৪০ শতাংশ এবং মধ্যপ্রদেশের ৪০ শতাংশ শিশুসুরক্ষা হোমের সরকারি স্বীকৃতি নেই। দেশের মধ্যে শুধু ছত্তিশগড়, চণ্ডীগড় এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের শিশু হোমগুলির ১০০ শতাংশের সরকারি স্বীকৃতি রয়েছে। লখনউয়ে অ্যাকাডেমি অফ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সমাজের পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী এবং বিপন্ন শিশুদের জন্য শিশু আবাসগুলি তৈরি হয়। তাদের সর্বাঙ্গীন বিকাশের জন্য যেমন পরিকাঠামো, লোকবল, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং অর্থের জোর থাকা দরকার, বেশিরভাগ হোমেরই তা নেই। শিশু আবাসের উন্নতিকল্পে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি এগুলির ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন সমীক্ষকরা।