মাদকের হোম ডেলিভারি, পুলিশের জালে ৩

427

জয়গাঁ: মোবাইলে সাংকেতিক শব্দ লিখে পাঠালেই হোম ডেলিভারি হত মাদকের পুরিয়া। তার জন্য অবশ্য দ্বিগুণ দাম দিতে হত গ্রাহকদের। বাড়িতে বসেই চলত মাদকের পুরিয়া তৈরির কাজ। এক গ্রামের একটি পুরিয়ার দাম ১ হাজার টাকা। ক্রমেই মাদক কারবার জমে উঠছিল এলাকার মাদক পাচারকারী দলটির। তবে বাঁধ সাধল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার ৩ জন ব্রাউন সুগার বিক্রেতাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে জয়গাঁ থানার পুলিশ। পুলিশি জেরায় পাচারকারীরা স্বীকার করে নেয় তাদের মাদক পাচারে যুক্ত থাকার কথা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়গাঁর ছোট মেচিয়াবস্তি এলাকায় নিজের বাড়িতেই মাদক ভর্তি ছোট ছোট পুরিয়া তৈরির কারখানা খুলে বসেছিল মজিবুল ইসলাম। তার ব্যবসায় যুক্ত ছিল এলাকার বাসিন্দা রফিকুল মিয়াঁ (মুন্না) ও ভাগীরথ বর্মন (গোবিন্দ)। রবিবার রাতে জয়গাঁ থানার ওসি দীপঙ্কর সাহার নেতৃত্বে পুলিশকর্মীদের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে দেখতে পান ছোট ছোট অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পেপারে এক গ্রাম করে ব্রাউন সুগার ভরে মেশিনের সাহায্যে প্রতিটি প্যাকেট তৈরি করছে তিন দুষ্কৃতী। পুলিশের অভিযান টের পেয়ে দুষ্কৃতী দলটি পালানোর চেষ্টা করলেও দলটিকে ধরে ফেলে।

- Advertisement -

জয়গাঁ থানার ওসি দিপঙ্কর সাহা বলেন, ‘দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে ৩০০ গ্ৰাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়েছে। ক্রেতাদের কাছে ওই ব্রাউন সুগার ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তাদের।’ তিনি জানিয়েছেন, মাদক সরবরাহের পাশাপাশি দুষ্কৃতীরা নিজেরাও নিয়মিত মাদক সেবন করত বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, মালদা থেকে মাদক আসত ভুটানের সীমান্ত শহর জয়গাঁয়। সেখানে পুরিয়া বানিয়ে ক্রেতাদের মাদক সরবরাহ করত দুষ্কৃতীরা। ওই চক্রের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছে তাদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

জয়গাঁর বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, মাদক সেবন করে জয়গাঁর যুব ও ছাত্র সমাজের একাংশ উচ্ছন্নে যাচ্ছে। মাদক সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

জয়গাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ধৃতদের সোমবার জলপাইগুড়ির বিশেষ আদালতে তোলা হয়েছে। তাদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।