রায়গঞ্জে বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার সহ গ্রেপ্তার ৩

292

রায়গঞ্জ: বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার সহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। রবিবার গভীর রাতে রায়গঞ্জ শহরের সুদর্শনপুর এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা হল, রাহুল মিত্র(২২) বাড়ি উদয়পুর, স্বপন দাস(৩২) বাড়ি রায়গঞ্জ শহরের হাইরোড কালীতলায়, সুজন পাল(২৪) বাড়ি রায়গঞ্জ শহরের অশোকপল্লী এলাকায়। ধৃতদের কাছ থেকে ৬০ গ্রাম ব্রাউন সুগার, একটি ওজন মেশিন, এবং একটি বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

- Advertisement -

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল গভীর রাতে রায়গঞ্জ শহরের সুদর্শনপুর এলাকায় ব্রাউন সুগার সহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি চারজন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এদিন সকাল থেকেই অভিযুক্তদের দফায় দফায় ম্যারাথন জেরা করা হয়। এরপর ওই তিন যুবককে মেডিকেল চেকআপের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিন দুপুরে ধৃতদের রায়গঞ্জ আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: রায়গঞ্জে বয়স বাড়িয়ে বার্ধক্য ভাতার আবেদনের অভিযোগ

পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘মাদকদ্রব্য সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে এই পাচারকারীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পাচারচক্র যুক্ত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, লকডাউনে বহু মানুষ ক্যারিয়ারের কাজে নেমে দিব্যি মদ সরবরাহ করে নেশার আসর চালাচ্ছেন। এই মদ সবটাই যে আসল এমনটা ভাবার কিছু নেই। জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ শহর ও শহরতলি এলাকায় লকডাউনে ঘরবন্দি জীবনে অনেকে বিলাতি মদের নামে নকল কারবার শুরু করেছেন। নেশায় আসক্ত যুবকদের মধ্যে সেই মদ খাওয়ার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। আবগারি দপ্তরের সুপারিনটেনডেন্ট বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, লকডাউন অদ্ভুতভাবে সামাজিক জীবনের পাশাপাশি অপরাধের চরিত্র পাল্টে দিয়েছে।

এখন রায়গঞ্জ থানা সহ অন্যান্য থানা এলাকায় অপরাধমূলক তেমন অভিযোগ জমা পড়ছে না। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, কোনও থানায় কেস রিপোর্ট নেই। ইটাহার থানার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, লকডাউনের আগের দিনে ১৫ থেকে ২০টা কেস জমা পড়ত। কিন্তু এখন একটা কেসও জমা পড়ছে না। একই কথা বললেন ইসলামপুরের পুলিশ সুপার শচীন মক্কর।

আরও পড়ুন: লকডাউন ভাঙার অভিযোগে ফালাকাটায় গ্রেপ্তার ১২

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন হচ্ছে, তবে কি অপরাধীরা সাধু হয়ে গেল? এক পুলিশ কর্তার কথায় মোটেই না। পরিস্থিতির সঙ্গে অপরাধীদের মোটিভ পাল্টেছে। যেমন, বাইকে এমার্জেন্সি ডিউটি স্টিকার লাগিয়ে ওষুধ নিয়ে আসার আছিলায় চলছে ব্রাউন সুগার সহ অন্যান্য মদের সরঞ্জাম। পুলিশ কর্তারা মনে করছেন, লকডাউন উঠে যাওয়ার পর পুরানো ক্রাইম ফিরে এলেও পাল্টে যাওয়া ট্রেন্ড থাকবে। কারণ, দীর্ঘদিন ঘরবন্দি জীবনের ফলে সামাজিক বিন্যাসে বিরাট পরিবর্তন আসবে। রায়গঞ্জ শহরতলি এলাকায় একাধিক জায়গায় দেশি ও বিদেশি মদ বিক্রি চলছে। তবে বাসিন্দাদের আশঙ্কা আসল মদের বদলে নকল মদ খেয়ে কোনও দুর্ঘটনা ঘটবে না তো? আবগারি দপ্তরের সুপারিনটেনডেন্ট তাপস কুমার মাইতি বলেন, ‘শহরের বিভিন্ন জায়গায় মদ বিক্রির খবর আসছে। আবগারি দপ্তর বিভিন্ন জায়গায় হানা দিচ্ছে। বিভিন্ন হাটগুলিতেও হানা দেওয়া হচ্ছে।’ তবে ধরা পড়লে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।