উত্তর দিনাজপুরে একইদিনে জলে ডুবে মৃত্যু ৩ জনের

281

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: দীঘিতে নৌকা উল্টে জলে তলিয়ে মৃত্যু হল এক মাছ ব্যবসায়ীর। শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে হেমতাবাদ থানার বগুয়াটুলি গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই ব্যক্তির নাম সামশুদ্দীন আহাম্মদ (৫০)। মৃতের ছেলে আসিমুল হক বলেন, মাঝ দীঘিতে নৌকা উল্টে যায়। সেই সময় দিঘিতে মাছের ডিম ছাড়ার কাজ করছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে জল থেকে উদ্ধার করে বাঙালবাড়ি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তখনও বাবার প্রাণ ছিল। এরপর রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এদিন বিকেল সাড়ে তিনটার নাগাদ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেয় রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের চিকিৎসক আরবি ঘোষ বলেন, ‘জলে তলিয়ে যাওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে উত্তর দিনাজপুর জেলার করণদিঘী থানার টুঙ্গীদীঘি গ্রামে বাড়ি সংলগ্ন পুকুরের ধারে খেলতে খেলতে পুকুরে পড়ে মৃত্যু হল দাদা ও বোনের। তিন ঘণ্টা পর উদ্ধার হয়। এমনকি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ চিকিৎসা চলছে বলে দাবি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল বছর চারেকের শিশু ও ১২ বছরের কিশোর। দিন কয়েকের বৃষ্টিতে বাড়িসংলগ্ন পুকুরে জলের পরিমাণ বেড়ে যায়। গতকাল ১২ বছরের দাদা ও চার বছরের বোনকে সঙ্গে নিয়ে পুকুরের ধারে খেলছিল। আচমকাই অঘটন। বাচ্চা শিশুটি পুকুর পাড় থেকে নেমে জলের ধারে চলে আসে। আর সেখান থেকেই গড়িয়ে পড়ে যায় বাড়ি লাগোয়া পুকুরে। বোনকে বাঁচাতে গিয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেয় দাদা। এদিকে দুজনের দৃশ্য দেখে পরিবারের লোকেরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। ছুটে আসে পাড়া-প্রতিবেশীরা তারা জলে নেমে খোঁজ শুরু করেন। তার মধ্যেই খবর পাঠানো হয় পুলিশকে। তিন ঘন্টার মধ্যে শিশু-কিশোরকে উদ্ধার করে করণদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন বাঁচাতে কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালেই মারা যায় শিশুটি। এরপর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। গতকাল রাত আটটা নাগাদ মৃতদেহ গিয়ে পৌঁছায় বাড়িতে।

- Advertisement -

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত শিশুর নাম জয়া মার্ডি (৪), মৃত কিশোরের নাম দেবা বাস্কে(১২)। পুত্র শোকে মাঝেমধ্যে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছে মৃতের মা ও বাবা। ছেলেমেয়েকে হারিয়ে শোকগ্রস্ত বাবা কোনক্রমে বললেন শ্বশুর বাড়িতে না আসলে এদের এইভাবে মরতে হতো না। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন চারেক আগে চাকুলিয়া থানার শ্রীপুর এলাকা থেকে শ্বশুর বাড়িতে ঘুরতে এসেছিলেন। গতকাল দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।