তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তেজনা, জখম ৩

140

বর্ধমান: ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বর্ধমানের রাজনৈতিক রণাঙ্গন। মঙ্গলবার রাতে বর্ধমানের পালিতপুরে ব্যাপক সংঘর্ষ বেধে যায় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে। সংঘর্ষে তিন তৃণমূলকর্মী জখম হন। ঘটনাস্থলে বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জখমদের মধ্যে দু’জনের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ায় তাঁদের রাতেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উত্তেজনা থাকায় এলাকায় পুলিশের টহলদারি জারি রয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে ধরপাকড় অভিযান।

বর্ধমান ১ ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি মানস ভট্টাচার্য জানান, পালিতপুরে তাঁদের দলের সক্রিয় কর্মী কানাই খাঁ’র হোটেল ও মাংসের দোকান রয়েছে। অভিযোগ, এলাকার বিজেপি নেতা সান্তনু তা’র নেতৃত্বে তাঁর দলবল রাতে লাঠি, রড, ধারালো অস্ত্র নিয়ে কানাই খাঁ’র দোকানে চড়াও হয়। কানাইকে মারধরের পাশাপাশি বিজেপির লোকজন তাঁর হেটেলে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ভাঙচুর করা হয় বাইকও। হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি কানাইয়ের বৌদিও। মানসের অভিযোগ, খবর পেয়ে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপরও চড়াও হন বিজেপির কর্মীরা। তৃণমূলকর্মীদেরও বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় গুরুতর জখম হন জাহাঙ্গীর শেখ ও ডালিম শেখ নামে দুই তৃণমূলকর্মী। তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পালিতপুর এলাকার অপর তৃণমূলকর্মী শেখ আনামত জানিয়েছেন, ডালিম ও জাহাঙ্গীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশের কাছে হামলাকারী বিজেপি নেতা ও কর্মীদের গ্রেপ্তাদের দাবি জানিয়েছেন বর্ধমানের তৃণমূল নেতৃত্ব।

- Advertisement -

তৃণমূলের আনা অভিযোগ যদিও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন জেলা বিজেপির সম্পাদক শ্যামল রায়। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির কোনও ব্যাপার নেই। ওই হোটেলে মদ সহ নানান নেশার দ্রব্য বিক্রি হয়। নেশাগ্রস্তদের উৎপাত এলাকায় বেড়ে চলায় সেখানকার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। নেশার দ্রব্য বিক্রি না করার জন্য এলাকার লোকজন বহুবার হোটেল মালিককে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু হোটেল মালিক সেই আপত্তির তোয়াক্কা না করে সেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এদিনও এলাকার কিছু লোক নেশাদ্রব্য বিক্রি বন্ধ করার কথা বলতে ওই হোটেলে যান। তখন হোটেল মালিকের দলবল এলাকাবাসীর ওপরে চড়াও হলে তাঁরাও প্রতিরোধে নামেন। তা থেকে এই ঘটনা।’ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তৃণমূলের নেতারা ঘটনার সঙ্গে বিজেপির নাম জড়িয়ে দিচ্ছে বলে দাবি শ্যামল রায়ের।