রামপুরহাটে একদিনে ৩ করোনা আক্রান্তের মৃত্যু, স্বাস্থ্য দপ্তরের ভূমিকায় ক্ষোভ

258

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট: একই দিনে ৩ করোনা আক্রান্তের মৃত্যুতে আতঙ্ক বাড়ল রামপুরহাট মহকুমাজুড়ে। এদিকে মৃতদের সৎকার করা নিয়ে ফাঁপরে পড়েছে প্রশাসন। মহম্মদ বাজারে এক চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় করোনা উপসর্গ নিয়ে রামপুরহাট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মহম্মদ বাজারের সোঁতশালের এক মাঝবয়সী ব্যক্তি। রবিবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভর্তি করা হয়েছিল রামপুরহাট পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দোসাতপাড়ার এবং নলহাটি পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কামার পাড়ার দুই বৃদ্ধকে।

- Advertisement -

রবিবার সকালে এবং রাতে দু’জনেরই মৃত্যু হয়। শনিবার রাতে রামপুরহাট সানঘাটাপাড়ার শ্মশানে মৃতদেহ সৎকার করতে গেলে এলাকার মানুষ বাধা দেন। ফলে মৃতদেহ সৎকার নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে প্রশাসন। এদিকে রবিবার মল্লারপুর ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এক আশাকর্মীর করোনা ধরা পড়েছে। তাঁকে রামপুরহাট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করে হয়েছে।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অফিস সিল করে দেওয়া হয়েছে। বিএমওএইচ শিবায়ন রায় বলেন, ‘আপাতত সাতদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই অফিস স্যানিটাইজ করা হবে। সমস্ত আশাকর্মীর করোনা পরীক্ষা করা হবে। তারপর অফিস খোলা হবে।’

অন্যদিকে, ২২ জুলাই রামপুরহাট হাটতলা থেকে করোনা পজিটিভ হওয়ায় এক যুবককে রামপুরহাট কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালের দিকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। আক্রান্ত যুবকের অভিযোগ তার দ্বিতীয়বার পরীক্ষা নিরীক্ষা না করেই ছেড়ে দেওয়া হল। ফলে তার শরীরে এখন করোনা ভাইরাস রয়েছে কিনা জানা গেল না।

এমনকি হাসপাতালের ডিসচার্জ কাগজে সব ঘরে ‘নিল’ লিখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতরের প্রতি ক্ষোভে ফুঁসছেন রামপুরহাট পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কারন ওই যুবকের করোনা ধরা পড়ায় গোটা ওয়ার্ড সিল করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত দোকানপাট। জরুরী প্রয়োজনেও মানুষ বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না।

এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। এদিকে রামপুরহাটের কোয়ারান্টিনে থাকা সদস্যদের ঠিকমতো খাবার মিলছে না বলে অভিযোগ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে তাদের। যদিও এখনও পর্যন্ত তারা কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।