স্ট্রবেরি ও ক্যাপসিকাম চাষেই স্বনির্ভরতার দিশা দেখাচ্ছেন ৩ শিক্ষক

126

রায়গঞ্জ: সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও আপেল কুল চাষ করে যুব সমাজকে স্বনির্ভর হতে দিশা দেখাচ্ছেন রায়গঞ্জের ৩ শিক্ষক। তবে রায়গঞ্জ সহ আশপাশের এলাকায় জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফলের বাজার গড়ে না ওঠায় সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। ফলে উৎপাদিত ফল ও ফসল নষ্ট হচ্ছে জমিতে। শিক্ষকদের দাবি, জৈব পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম চাষের জন্য এখানকার মাটি, জলবায়ু অনূকূল। ভালো উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় বাজার না থাকায় জমি থেকে ফসল তোলা যাচ্ছে না। রায়গঞ্জ ব্লকের ৬ নম্বর রামপুর অঞ্চলের মহারাজাহাটের অর্থগ্রামে প্রায় দেড় বিঘা জমি লিজ নিয়ে জৈব পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও আপেল কুলের চাষ শুরু করেছেন রায়গঞ্জের ৩ শিক্ষক। গত বছর লকডাউনের সময় ভরতপুর হাই স্কুলের ভুগোলের শিক্ষক শ্রীকান্ত পাল, এসবিটোলি হাই স্কুলের ভুগোলের শিক্ষক ত্রিদীপ্ত ঘোষ এবং শিক্ষক সন্তু ঘোষ গতববছর যৌথভাবে চাষ শুরু করেন।

শিক্ষক শ্রীকান্ত পাল বলেন, ‘গত বছর লকডাউনের সময় ভালো উৎপাদন হয়েছে। এজন্য প্রায় লক্ষাধিক টাকা ইনভেস্ট করে চাষ শুরু করি। কিন্তু লকডাউনের সময় জমিতে পরে থেকে ফসল নষ্ট হয়েছে। এবছরও আবার শুরু করেছি। উৎপাদন ভালো হয়েছে এবারও।

- Advertisement -

শিক্ষক ত্রিদীপ্ত ঘোষ বলেন, ‘জৈব পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও আপেল কুল চাষ করে বেকার যুবকেরা স্বনির্ভর হতে পারে। স্থানীয় বাজার না থাকলেও বাইরে যথেষ্ট বাজার রয়েছে। তবে এখানে সেভাবে বাজার গড়ে না ওঠায় উৎপাদিত পণ্যের সেভাবে দাম পাওয়া যায় না। সরকারি সাহায্য পেলে এই ফল চাষ লাভজনক।’ তাদের দাবি, আর্থিকভাবে দুর্বল কৃষকেরা এবং বেকার যুবকেরা এই ফল চাষ করে ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারেন।

শিক্ষক সন্তু ঘোষ বলেন, পাঁচ বিঘা জমির মধ্যে আমরা মাত্র দেড় বিঘা জমিতে চাষাবাদ করছি। এজন্য কোথাও কোনও প্রশিক্ষণ নেইনি। ইউটিউবের মাধ্যমে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম চাষের যাবতীয় বিষয় জনেই চাষাবাদ শুরু করি। উৎপাদন যথেষ্ট ভালো হয়েছে। তবে স্থানীয় বাজার না থাকায় বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে।’

রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী জানান, রায়গঞ্জে মাল্টিপারপাস হিমঘর চালু থাকলে ফল, সবজি চাষিরা এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হত না। সরকারি সহযোগিতা পেলে ভালো দাম পাবেন চাষীরা।

রায়গঞ্জ ব্লকের সহ কৃষি অধিকর্তা তুষার কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘সরকারের আতমা প্রকল্পে উৎসাহী কৃষকদের জৈব পদ্ধতিতে চাষ ও উদ্ভাবনী কৃষির জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়। আমরা ইতিমধ্যেই ওই জমি পরিদর্শন করে এসেছি। চেষ্টা করব, যাতে এই অঞ্চলে স্ট্রবেরি, ক্যাপসিকাম ও আপেল কুলের চাষ বৃদ্ধি করা যায়।’