২০ পদের জন্য ৩০ হাজার আবেদন

- Advertisement -

হরষিত সিংহ, মালদা : অষ্টম শ্রেণি পাশের যোগ্যতা থাকলেই আবেদন করার সুযোগ মিলেছে। কিন্তু মালদা জেলায় বন দপ্তরের সহায়ক পদের চুক্তিভিত্তিক চাকরির জন্য আবেদন জমা দিয়েছেন পিএইচডি ডিগ্রিধারীরাও। মালদা জেলা বন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক সহায়ক পদে সম্ভবত নেওয়া হবে ২০ জন। কিন্তু আবেদন জমা পড়েছে ৩০ হাজারের বেশি। স্নাতকোত্তর পাশ বহু যুবক-যুবতী আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তিন থেকে চার জন পিএইচডি ডিগ্রি করা বেকার যুবক চুক্তিভিত্তিক এই পদের জন্য আবেদন করেছেন। মালদা জেলা বন দপ্তরের কর্তারা এই কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের দাবি পিএইচডি ডিগ্রি যাঁদের রয়েছে তাঁরা এই চাকরি করবেন না। পরে ভালো চাকরি পেলে সেখানে চলে যাবেন। আমাদের পদ ফাঁকা পড়ে থাকবে।

সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বন বিভাগের সহায়ক পদে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যে দুই হাজার নিয়োগ হবে। এক বছরের চুক্তিভিত্তিক। তাদের মাসিক দশ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে। আবেদন জমা শেষ হতেই মালদা জেলায় শুরু হয়েছে চাকরির ইন্টারভিউ। জেলা বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা জেলায় মোট আবেদন করেছেন ৩০ হাজার ৬০০ জন। কিন্তু মালদা জেলায় নেওয়া হতে পারে ১৫ থেকে ২০ জন। যদিও জেলা বন দপ্তরের কর্তারাদের সঠিক জানা নেই, মালদা জেলায় কতজনকে নেওয়া হবে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে ইন্টারভিউ। প্রায় দেড় মাস ধরে চলবে জেলা বন দপ্তরে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া। তারপর চূড়ান্ত করা হবে নিয়োগের তালিকা। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার প্রার্থীকে ডাকা হচ্ছে ইন্টারভিউয়ে জন্য।

প্রতিদিন ভোর থেকে মালদা জেলা এলআইসি মোড় সংলগ্ন বন দপ্তরের সামনে লম্বা লাইন দিয়ে অপেক্ষা করছেন প্রার্থীরা। করোনা পরিস্থিতিতে প্রচুর প্রার্থী আসায় ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। ভিড়ে নিজেদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে না অনেক প্রার্থীর, মুখে মাস্ক নেই। তবুও অন্যান্য প্রার্থীরা বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রার্থীরা জানান, ফাঁকা ফাঁকা হয়ে লাইন করলে অনেকে সেই জায়গায় ঢুকে পড়ছেন। খোলা আকাশের নীচে প্রখর রোদে দাঁড়িয়ে থাকছি। লাইনের পাশ দিয়ে যানবাহন চালচল করছে। রাখেশ জয়সোয়াল নামে এই চাকরি প্রার্থী জানান, ভিড়ে লাইনে দাঁড়াতে ভয় হচ্ছে। কারণ, আমরা তো জানি না কার করোনা আছে, কার নেই। তবুও বাধ্য হয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে অন্যভাবে আমাদের ইন্টারভিউ নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারত।

মহম্মদ আলম নামের এক চাকরি প্রার্থী জানান, আমি এমএ পাশ করেছি। আমার বিএড করা আছে। অন্যান্য চাকরির প্যানেল প্রকাশিত হচ্ছে না। নিয়মিত চাকরি হচ্ছে না। তাই আমরা এই চাকরি জন্য আবেদন করেছি। সরকারের কাছে আমার আবেদন, নিয়মিত যেন চাকরি দেওয়া হয়। এমনকি প্যানেলগুলি দ্রুত প্রকাশ করা হয়। যদিও ভিড়ের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন মালদা জেলা বন দপ্তরের কর্তারা। বাইরে ভিড় সামাল দিতে না পারলেও অফিসের ভিতরে ঢোকানোর সময় সমস্ত প্রার্থীদের থার্মাল স্ক্রিনিং ও স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। জেলা বন দপ্তরের এক আধিকারিক সুবীর গুহনিয়োগী জানান, বাইরের ভিড় আমরা সামল দিতে পারছি না। তবে ভেতরে ঢোকানোর সময় স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। স্ক্রিনিং করা হচ্ছে।

জেলা বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন এক হাজার চাকুরি প্রার্থীকে ডাকা হলেও গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ জন করে আসছেন। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই ইন্টারভিউ। তারপর পুজোর ছুটির জন্য বন্ধ থাকবে। বাকিদের আবার পুজোর ছুটির পর ডাকা হবে।

- Advertisement -