চাল-গম পাচার রুখতে রাস্তায় ৩০০ ইনস্পেকটর

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : বেআইনিভাবে ভিনরাজ্যে ধান, চাল, গম যাওয়া আটকাতে কড়া হচ্ছে রাজ্য খাদ্য দপ্তর। ইতিমধ্যেই জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের চিঠি পাঠিয়ে নজরদারি বাড়াতে বলেছে রাজ্য। তার পাশাপাশি রাজ্যে প্রায় ৩০০ ইনস্পেকটরকে এই কাজে রাস্তায় নামাচ্ছে খাদ্য দপ্তর। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গে প্রায় ৮০ জন ইনস্পেকটর চলতি সপ্তাহেই এই কাজে নামছেন। ভিনরাজ্যে চাল, গম পাচারকারীদের ধরতে তাঁরা সরকারি গাড়ি না নিয়ে এই নজরদারি চালাবেন।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সোমবার জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে ধান কেনা শুরু হয়েছে। এই মরশুমে ব্যাপক নজরদারি চলবে। সমস্ত পুলিশ সুপার, জেলা শাসককে এব্যাপারে বলা হয়েছে। জেলা শাসকরা ডিস্ট্রিক্ট লেভেল মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান। তাই তাঁদের বলা হয়েছে বিডিওদের মনিটর করতে। এর পাশাপাশি রাস্তা দিয়ে যত খাদ্যশস্য যাচ্ছে তা গম, চাল যাই হোক, তার চালান খতিয়ে দেখতে হবে। কোথা থেকে সেই মালপত্র এসেছে, কী ধরনের মালপত্র যাচ্ছে, তা দেখতে হবে। বাংলা থেকে কোথাও সরকারি অনুমতি ছাড়া খাদ্যশস্য যাবে না। ধান থেকে চাল হওয়ার পর তা দিয়ে এই রাজ্যের প্রয়োজন পূরণ হওয়ার পর অন্য রাজ্যে দেওয়া হবে। সেটাও সরকারের অনুমতি নিয়ে বেআইনিভাবে চাল, গম পাঠানো রুখতে নজরদারি বাড়াতে রাজ্যে প্রায় ৩০০ ইনস্পেকটর নামানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গে প্রায় ৮০ জন রাস্তায় ঘুরবেন। এমনকি যাতে কেউ বুঝতে না পারে তার জন্য তাঁরা সরকারি গাড়িও ব্যবহার করবেন না। ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে নজরদারি চালাবে।

- Advertisement -

খাদ্যমন্ত্রী জানান, শুধু অন্য রাজ্যে চালান হওয়া নয়, এই রাজ্যের গোডাউনগুলিতে কী ধরনের মালপত্র, কী পরিমাণে যাচ্ছে তাও রাস্তায় দেখা হবে। এর সঙ্গে বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটারের গোডাউন, র্যাশন দোকানেও নজরদারি বাড়ানো হবে। চাল, গমের কোয়ালিটিও পরীক্ষা করে দেখা হবে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দপ্তরের কাজে বর্তমানে অনেকটাই স্বচ্ছতা এসেছে। ১০ শতাংশের মতো কাজ বাকি রয়েছে। কোচবিহার জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক চাঁদমোহন সাহা বলেন, বিষয়টি কিছু জানা নেই। কেউ জানায়নি। তবে প্রশাসন সরকার তাদের কাজ করবে। তবে বিষয়টি নিয়ে যদি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে পরবর্তীতে ভাবতে হবে। নর্থবেঙ্গল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আয়ুষ টিব্রুয়াল বলেন, সরকার যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সঠিক। তবে সমস্ত কাজটি যাতে ঠিকভাবে হয় সেটা দেখতে হবে। ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল এমআর ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের কোচবিহার জেলা সম্পাদক বিমলেন্দু রায় বলেন, সরকার নজরদারি বাড়াবে এটা ভালো। আমাদের কোনও আপত্তি নেই।