বালিবোঝাই ট্রাক আটকে মাফিয়াদের হুমকির মুখে আধিকারিকরা

430

আসানসোল: বৈধ কাগজ ছাড়া বালির ট্রাক ও ডাম্পার আটকে ঝাড়খণ্ডের একদল বালি মাফিয়াদের হুমকির মুখে পড়তে হল পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বারাবনির বিএলআরও সহ সরকারি আধিকারিকদের। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলায়। বৃহস্পতিবার বারাবনি থানার গৌরান্ডির অজয় নদীর রুনাকুড়ঘাট যাওয়ার রাস্তায় এই ঘটনাটি ঘটে।

এলাকার একটি পেট্রল পাম্প থেকে বালিবোঝাই ৩৫টি ট্রাক আটক করা হয়। বালিবোঝাই আরও একটি ডাম্পারও আটক করা হয়েছে। সেই খবর পেয়েই পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের কয়েক জন বালি মাফিয়া এসে বিএলআরও সহ সরকারি আধিকারিকদের আটকে রেখে গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়ার দাবি করে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। পরে বারাবনি থানার পুলিশ চলে আসায় মাফিয়ারা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার বারাবনির গৌরান্ডিতে অজয় নদী রুনাকুড়াঘাট যাওয়ার রাস্তায় একটি পেট্রোল পাম্পে আটক করা বালিবোঝাই ৩৬টি গাড়ি। সেই সময় গাড়ির চালকদের কাছ থেকে চালান দেখতে চান বারাবনির বিএলআরও উদয়শংকর ভট্টাচার্য্য সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। কিন্তু গাড়ির চালকরা চালান দেখাতে চাইছিলেন না। চালকরা জানান, চালান নিয়ে অন্য কেউ আসছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝাড়খন্ড থেকে একদল মাফিয়া সেখানে আসে। তাঁরা বিএলআরও, এক মহিলা আধিকারিক সহ সবাইকে ঘিরে ফেলে।

তারা হুমকি দেয়, গাড়িগুলোকে এখান থেকে আমরা নিয়ে যেতে দেব না। আপনারা এখনি চলে যান। তারা সরকারি আধিকারিকদের অশ্লীল গালিগালাজ করতে শুরু করে। অবস্থা ঠিক নয় বুঝতে পেরে, বারাবনির বিএলআরও বারাবনি থানায় খবর দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে বারাবনি থানার পুলিশ পৌঁছে যায়। পুলিশ দেখে বালি মাফিয়ারা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে বিএলআরও গাড়িগুলোকে পুলিশের হাতে দেন।

বারাবনির বিএলআরও উদয়শংকর ভট্টাচার্য শুক্রবার বলেন, ৩৬টি গাড়ির বেশিরভাগই বিহারের ও ঝাড়খণ্ড নম্বরের। একটি গাড়ি নাগাল্যান্ডের নম্বরেরও ছিল। গাড়ির চালকদের কাছে কোনও চালান বা বালির কাগজ ছিল না। সবচেয়ে বড় কথা, এই সময় নদী থেকে বালি তোলাও নিষেধ আছে। গাড়িগুলো সম্ভবত এখান থেকে ঝাড়খন্ড হয়ে বিহারে চলে যেত। আমরা বেশ কয়েকদিন ধরে এই গাড়িগুলো নিয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাচ্ছিলাম। তাই আচমকা সেখানে হানা দিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমাকে, দপ্তরের মহিলা আধিকারিক সহ গোটা দলকে আটকে রাখা হয়। অশ্লীল গালিগালাজও করা হয়। পুলিশ চলে আসায় ওরা পালিয়ে যায়। পুরো বিষয়টি লিখিত আকারে আমি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। শুনেছি তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। বিএলআরও ছাড়াও ছিলেন পার্থসারথি সরখেল, দুই রেভিনিউ অফিসার স্নেহা চট্টোপাধ্যায় ও শেখর মজুমদার।