গাজোলে করোনা আক্রান্ত আরও ৩৮

গাজোল: এক লাফে গাজোল ব্লকে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে গেল অনেকটাই। শনিবার রাতে মালদা জেলায় যে ৫১ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে ৩৮ জনই গাজোলের।

এঁদের মধ্যে ৩৭ জন করকচ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এবং ১ জন সাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। একসঙ্গে এত জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গাজোল শহর এলাকায়। তবে গ্রামীণ এলাকায় দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। কোনও কিছুর মানা-মানির বালাই নেই। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তো দূরের কথা, মাস্ক ব্যবহার করতেও দেখা যাচ্ছে না কাউকে। এই ভাবেই চায়ের দোকান সহ অন্যান্য দোকানগুলিতে দেখা গিয়েছে চরম ভিড়। সামাজিক দূরত্বের বালাই না মেনে চলছে এক জায়গায় জড়ো হয়ে গল্পগুজব। এরকম চলতে থাকলে আগামী দিনে করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে গাজোল ব্লক ভয়াবহ জায়গায় পৌঁছতে পারে বলে মনে করছেন আমজনতা।

- Advertisement -

তবে একসঙ্গে এত জন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্য দপ্তরের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।  ভবানীপুর এলাকার একই পরিবারের পাঁচ জনকে পুরাতন মালদার কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। বাকিদের সম্ভবত আগামীকাল নিয়ে যাওয়া হতে পারে। সংক্রামিতদের মধ্যে বেশিরভাগই রয়েছেন কোয়ারান্টিন সেন্টারে। কয়েকজন রয়েছেন হোম কোয়ারান্টিনে। করকচ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পঞ্চায়েতের টাস্কফোর্স কড়া নজর রেখে চলেছে।

এর আগে সাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার লক্ষীপুরের ১৩ জন, সালাইডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একজন এবং বাবুপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একজন পরিযায়ী শ্রমিকের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। কয়েকদিন পরে করকচ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উপদেল গ্রামের তিনজনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছিল, এই সমস্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের লালা সংগ্রহ করা হবে। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার করকচে এবং শুক্রবার লক্ষ্মীপুরে লালা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য দপ্তর। দুই দিনে ১০০ মোট জনের লালা সংগ্রহ করা হয়। গতকাল রাতে পাওয়া যায় সেই রিপোর্ট।

রিপোর্টে দেখা যায় ৩৮ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এরমধ্যে উপদেল গ্রামের রয়েছেন ৩২ জন, ভবানীপুর গ্রামের একই পরিবারের ৫ জন এবং সাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মানপুকুর গ্রামের ১ জন। তবে এই রিপোর্ট থেকে যে তথ্য উঠে আসছে তা থেকে জানা যাচ্ছে এবার শুধু পরিযায়ী শ্রমিকেরাই নন, আক্রান্ত হয়েছেন সংস্পর্শে আসা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। যা যথেষ্ট চিন্তার এবং উদ্বেগের।আক্রান্তদের মধ্যে যেমন বয়স্ক ব্যক্তি রয়েছেন, তেমনি রয়েছে বছর-দশেকের একটি শিশুও।

গাজলের বিধায়ক দিপালী বিশ্বাস জানিয়েছেন, এদিন নতুন করে ৩৮ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এর আগে ২২ জন আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে আশার কথা আগের আক্রান্তদের প্রায় সকলেই সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। এদিন যাদের খোঁজ পাওয়া গেছে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য দপ্তর। প্রশাসন ও এলাকার উপর বিশেষভাবে নজর রাখছে। একই কথা জানিয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রেজিনা পারভিন এবং সহ-সভাপতি জয়ন্ত ঘোষ।