সরকারি দপ্তরগুলির বকেয়া সাড়ে ৪ কোটি টাকা পুরকর, চিঠি পুরসভার

93
Balurghat Municipality

বালুরঘাট: জেলাশাসক, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকরা মেটাননি পুরকর। এমনকি বেশকিছু অফিস থেকেও ভাড়া পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছেনা পুরসভাকে। পুরকর ও বাড়িভাড়া মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা বকেয়া তুলতে, হিমশিম খাবার জোগাড় বালুরঘাট পৌরসভার। বালুরঘাট শহরের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরগুলি পুর কর জমা করেনি দীর্ঘ প্রায় নয় বছর। আর্থিক সঙ্কটে থাকা পৌরসভার নিজস্ব আয় বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছেন নতুন প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান হরিপদ সাহা। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই পৌরসভার উপার্জন বাড়াতে সচেষ্ট হন।  বকেয়া এই টাকা তুলতে বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল, জেলাশাসকের ভবন, বিদ্যুৎ দপ্তর, সহ বিভিন্ন দপ্তরে নোটিশ পাঠাতে শুরু করেছে পৌরসভা। যদি সেই বকেয়া টাকা কতটা মিলবে তা নিয়ে সন্দিহান পুর প্রশাসক হরিপদ সাহা।

বালুরঘাট পুরসভার সূত্রে জানা গিয়েছে, বালুরঘাট শহরের মধ্যে থাকা বিভিন্ন হোলডিং নাম্বারযুক্ত সরকারি দপ্তর গুলি থেকে কর পায় পুরসভা। এই করের টাকায় পুরসভার নিজস্ব আয় বলে ধরা হয়। বালুঘাট শহরের অভ্যন্তরে থাকা জেলা প্রশাসনিক ভবন, জেলা পুলিশ সুপারের অফিস, হাসপাতাল জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিস সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর রয়েছে। এই দপ্তর গুলির অনেকেই ৮-১০ বছর ধরে কোন কর মেটায়নি বলে অভিযোগ বালুরঘাট পৌর কর্তৃপক্ষের। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের তাকেই সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে পৌরসভার। সেখানে প্রায় দুই কোটি ৩১ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। জেলা প্রশাসনিক ভবন বা  জেলাশাসকের নামে থাকা হোল্ডিং যুক্ত  দপ্তরে বকেয়া রয়েছে প্রায় এক কোটি ১২ লক্ষ টাকা।  এছাড়াও স্কুল শিক্ষা দপ্তরে ১০ লক্ষ,  কালেক্টরি অফিসে ২ লক্ষ, বিডিও অফিসে ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার, পিইচই দপ্তরে ৭ লক্ষ, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে ৩৬ লক্ষ, জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিরের দপ্তরে ১১ লক্ষ বকেয়া সহ আরও কিছু সরকারি দপ্তর মিলিয়ে মোট সারে চার কোটি টাকা পুরকর বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও বালুরঘাট পুরসভার নিজস্ব ভবনে ছড়িয়ে রয়েছে শহরের চারিদিকে। ওই ভবনগুলিও ভাড়া দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর গুলিকে। ওই  অফিস গুলি ও তাদের ভাড়া দীর্ঘ বছর ধরে ফেলে রেখেছে। ইনকাম ট্যাক্স অফিসে প্রায় ৪৪ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা, কমার্শিয়াল ট্যাক্স অফিসে প্রায় ৯ লক্ষ, কনজিউমার্স সাব জেল মার্কেটে প্রায় ৫ লক্ষ সহ বিভিন্ন জায়গায় বহু বকেয়া রয়েছে। বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত পুরকর মেটানোর ক্ষেত্রে আগ্রহ থাকলেও, সরকারি দপ্তরগুলির কিন্তু এই পুরকর মেটাতে যথেষ্ট অনীহা রয়েছে। ফলে নতুন পুর প্রশাসক বোর্ড এই টাকাগুলো ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়ে ওই পুরকর মেটাতে সরকারি দপ্তর গুলিকে অনুরোধ জানাতে শুরু করেছে।

- Advertisement -

বালুরঘাট পুরসভার প্রশাসক মন্ডলির চেয়ারম্যান হরিপদ সাহা বলেন, ‘পুরসভায় আর্থিক সংকট রয়েছে। তাই বকেয়া পৌরকর মেটাতে সরকারি দপ্তর গুলিকে চিঠি করা হচ্ছে। ওই বকেয়াগুলি মেটালে পুরসভা পরিচালনায় সুবিধা হবে এবং উন্নয়নমূলক কাজ হবে।‘ অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসক নিখিল নির্মল বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। তবে পুরসভার চিঠি পেলে বিষয়টি খোঁজখবর নেব এবং পুরকর বাকি থাকলে সেগুলি পরিশোধের উদ্যোগ নেব।‘