র‍্যাশনের খাদ্যসামগ্রী মজুত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

305

বর্ধমান: চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধ উপায়ে র‍্যাশনের খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করে গোডাউনে মজুত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন চারজন। মঙ্গলবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামের গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ আনন্দবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুটি গোডাউনে হানাদিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গুসকরা এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, হাবল পাল, দিলীপ মণ্ডল, পিনাকী মণ্ডল ও রমানাথ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রমানাথের বাড়ি আউসগ্রামের কলাইঝুটি গ্রামে। বাকি তিনজন আউসগ্রামের বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের দাবি ধৃতদের গোডাউন থেকে ৬৮ ব্যাগ র‍্যাশনের চাল, ১৫৭ ব্যাগ আটা ও ৩৭৫ ব্যাগ গম উদ্ধার হয়েছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ চার ধৃতকেই বুধবার পেশ করে বর্ধমান আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ ধৃতদের মধ্যে দিলীপ মণ্ডল ও হাবল পালকে ৫ দিন পুলিশ হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায়। সিজেএম দিলীপ ও হাবলের ৩ দিন পুলিশী হেপাজত ও বাকিদের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতরা যদিও এদিন দাবি করেন এলাকার লোকজন চক্রান্ত করে তাঁদের ফাঁসিয়েছে।

- Advertisement -

পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ উপায়ে র‍্যাশনের খাদ্য সামগ্রী গোডাউনে মজুত করা সংক্রান্ত খবর গোপন সূত্রে মঙ্গলবার রাতে গুসকরা ফাঁড়িতে পৌঁছায়। সেই খবর পেয়েই গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ বাহিনী আউশগ্রামের আনন্দবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি গোডাউনে হানা দেয়। পুলিশ দেখে সেখানে বস্তা বস্তা চাল, গম এবং আটার প্যাকেট মজুত রয়েছে। ওই সব খদ্য সামগ্রীর ব্যাগে খাদ্যদপ্তরের লেভেল মারা রয়েছে বলেও দেখতে পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে গোডাউনে ওই সব খাদ্য সামগ্রী মজুতের বিষয়ে গোডাউন মালিকরা কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। তাদের কথা বার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ার পরেই পুলিশ চারজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। গোডাউন গুলি থেকে বহু খাদ্যসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। এত বিপুল পরিমাণ র‍্যাশনের সামগ্রী ধৃতরা কোথা থেকে কীভাবে পেলেন তা জানার জন্য পুলিশ হেপাজতে নেওয়া ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।