মহানন্দার ভাঙনের জের, মাটি ধসে ভেঙে পড়েছে ৪টি বাড়ি

0
324
- Advertisement -

সামসী: মহানন্দার পাড়ভাঙনের জেরে সংলগ্ন এলাকার মাটি ধসে ভেঙে পড়েছে বাড়ি। ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে ঠাঁই নিয়েছে চারটি পরিবার। সরকারি ত্রাণের অপেক্ষায় এখন দিন গুনছে অসহায় এই পরিবারগুলি। রতুয়া-২ ব্লকের শ্রীপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কুচিলা গ্রামের ঘটনা।

মহানন্দার পাড়ভাঙনের জেরে শুক্রবার গভীর রাতে সংলগ্ন এলাকার মাটি ধসে ভেঙে পড়েছে কুচিলা গ্রামের এই চারটি বাড়ি। তবে গতকাল সকাল থেকে বাড়িগুলিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় আগে থেকেই সমস্ত আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছিল ওই পরিবারগুলির সদস্যরা। তাঁরা নিজেরাও নিরাপদ জায়গায় চলে যান। গভীর রাতেই তাঁদের ঘরবাড়ি ধসে পড়ে। ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

শ্রীপুর-১ পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, মহানন্দা নদীর পাড়ভাঙনের জেরে যাঁদের ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে তাঁরা হলেন আব্দুল খালেক। খালেকের দুই ছেলে সেরাজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম এবং তাঁদের এক পড়শী ইয়াদুল আলম। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা তাঁদের। কোনওরকম দিনমজুরি সংসার চালান তাঁরা। অন্য কোনও জমি জায়গাও তেমন নেই তাঁদের। একমাত্র ঠাঁই হিসেবে বসবাসের জন্য বাড়িগুলিই তাঁদের সম্বল ছিল। কিন্তু সেটাও ধসে গিয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন কি করবেন তাঁরা ভেবে কুল খুঁজে পাচ্ছেন না।

৬৮ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, তাঁর বসবাসের জন্য তিনটি কাঁচা মাটির ঘর ছিল। কিন্তু গতকাল গভীর রাতে ধসে যায় ঘরগুলি। এক ছেলে সেরাজুল ইসলামের বসবাসের দুটি পাকাঘরও পড়ে গিয়েছে। আর এক ছেলে নজরুল ইসলামের একমাত্র বসবাসের কাঁচা ঘরটিও ধসে গিয়েছে। এদিকে, পাশের ইয়াদুল আলমেরও একমাত্র বসবাসের কাঁচা ঘরটিও ধসে পড়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে চারটি পরিবারের প্রায় ২০ জন সদস্য খোলা আকাশের নীচে রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু ওই অসহায় পরিবারগুলিকে সাহায্যের জন্য এখনও পর্যন্ত পঞ্চায়েত কিংবা ব্লক প্রশাসন কেউই এগিয়ে আসেনি। এনিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেছে অসহায় পরিবারগুলি।

গৃহহীন সেরাজুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ইয়াদুল আলমরা জানান, সরকারি ত্রাণের জন্য মৌখিকভাবে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনকে বেছেন তাঁরা। লিখিতভাবে একটি করে পাকা ঘরেরও আবেদন জানানো হবে বলেও জানান তাঁরা।

রতুয়া-২ এর বিডিও সোমনাথ মান্না বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ইতিমধ্যেই পঞ্চায়েত প্রশাসনকে বিষয়টি সরজমিনে খতিয়ে দেখে খুব শীঘ্রই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। তারপর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সবরকম ত্রাণ দেওয়ার বিষয়টি ভাবা হবে।’

এলাকার বিধায়ক আলবেরুনীকে(মালতীপুর)এব্যাপারে বলেন, ‘কলকাতায় রয়েছি। কাল বা পরশু বাড়ি ফিরে কুচিলায় গিয়ে অসহায় পরিবারগুলিকে ত্রাণ দেওয়া হবে।’ তবে বিডিওকে বলে তড়িঘড়ি কিছু ত্রাণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন বিধায়ক।

- Advertisement -