৪০ কোটি টাকা পড়ে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে

147

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : সাত মাস ধরে নির্বাচিত বোর্ড নেই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে। এই অবস্থায় চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ৪০ কোটি টাকা পড়ে থাকলেও সেভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। অথচ মহকুমার চারটি ব্লকেই বিভিন্ন পঞ্চায়েতে পানীয় জল, রাস্তা, নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রচুর সমস্যা রয়েছে। সরকারি টাকা পড়ে থাকলেও কেন মানুষ ন্যূনতম সরকারি পরিষেবাটুকুও পাচ্ছেন না, সেই প্রশ্ন উঠছে।

দার্জিলিংয়ের জেলা শাসক এস পন্নমবলম অবশ্য বলেন, সম্ভবত এত টাকা পড়ে নেই। আমরা এখনও পর্যন্ত যে টাকা পেয়েছি তা ধাপে ধাপে টেন্ডার করে কাজ করা হচ্ছে। তবে, মহকুমা পরিষদের সদ্য প্রাক্তন সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, আমার কাছে যে হিসাব রয়েছে সেই অনুযায়ী চতুর্দশ এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশন মিলিয়ে প্রায় ৪০ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। মহকুমা পরিষদের সদ্য প্রাক্তন বোর্ডের বিরোধী দলনেতা কাজল ঘোষ বলেন, মহকুমা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে ৩৫-৪০ কোটি টাকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় কাজে সমস্যা হচ্ছে বলে শুনেছি।

- Advertisement -

শিলিগুড়ি মহকুমার চারটি ব্লকে অনুন্নয়নের ছবি স্পষ্ট রয়েছে। মাটিগাড়া ব্লকের চম্পাসারি, আঠারোখাই পাথরঘাটা এবং নকশালবাড়ি ব্লকের আপার বাগডোগরা এবং লোয়ার বাগডোগরা, গোঁসাইপুর এই কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে নগরায়ণের কিছুটা ছোঁয়া লাগলেও বাকি ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতই এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে চারটি ব্লকেই পানীয় জলের অভাব সবচেয়ে বড় একটা সমস্যা। চা বাগানগুলিতে সজলধারা প্রকল্প বন্ধ হয়ে রয়েছে। গ্রামে গ্রামে গভীর নলকূপগুলিও ৯০ শতাংশের উপরেই খারাপ। অথচ চারটি ব্লকের ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়নের জন্য অনেক প্রকল্প রয়েছে। যার মাধ্যমে পানীয় জল, নিকাশি থেকে শুরু করে রাস্তা তৈরি- সমস্তটাই করা সম্ভব। কিন্তু টাকা এসে পড়ে থাকলেও গত বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাস থেকে উন্নয়ন কার্যত থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

মহকুমা পরিষদ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চতুর্দশ অর্থ কমিশনের কেন্দ্রের দেওয়া ১৭ কোটি ৯০ লক্ষ ৭ হাজার ৪৩৩ টাকা পড়ে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৮ কোটি ৬৭ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৭৫ টাকা পড়ে রয়েছে নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির গোঁসাইপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে। খড়িবাড়ির বুড়াগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতই একমাত্র প্রাপ্ত টাকার পুরোটাই খরচ করেছে। ওই সময়ই ২২টি পঞ্চায়েতকে রাজ্য সরকার প্রদত্ত অর্থ কমিশনের তরফে দেওয়া ৯৭ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৭৭ টাকাও তহবিলে রয়েছে। এই খাতে মাটিগাড়া-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে সবচেয়ে বেশি ১৭ লক্ষ ৬৩ হাজার ১৪৯ টাকা পড়ে রয়েছে।

এর পরেই পরপর দুবার পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ১৪ কোটি ৮৪ লক্ষ ২৮ হাজার ২১০ টাকা করে এসেছে। সেই টাকারও সিংহভাগটাই পড়ে রয়েছে বলে মহকুমা পরিষদ সূত্রে খবর। এছাড়া বিশ্ব ব্যাংক থেকে আইএসজিপিপি-২ তহবিলে পাওয়া এক কোটি টাকার উপরে মহকুমা পরিষদের হাতে রয়েছে। গ্রামের মানুষের দাবি, দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল, রাস্তা নির্মাণ এবং নিকাশি ব্যবস্থা তৈরির কাজ করা হোক।