স্নেহের পরশ প্রকল্পে ৪০ হাজার ভুয়ো আবেদন

প্রকাশ মিশ্র, মালদা : লকডাউনে ভিনরাজ্যে আটকে পড়া হাজার হাজার শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দিতে স্নেহের পরশ প্রকল্প শুরু করে রাজ্য। কিন্তু সেই প্রকল্পে শুধু মালদা জেলাতেই এক-আধজন নয়, ৪০ হাজার ভুয়ো আবেদনকারীর খোঁজ মিলল। অবশ্য গুগল ম্যাপিংয়ে মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ে পর ওই বিপুল পরিমাণ ভুয়ো আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্নেহের পরশ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে মালদা। ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে লকডাউনে আটকে পড়া ৪৬ হাজার শ্রমিকের বেশিরভাগের অ্যাকাউন্টেই রাজ্য সরকারের ঘোষণা মতো এককালীন এক হাজার টাকা করে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানান মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল।

ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আটকে পড়া শ্রমিকদের সাময়িক আর্থিক সুরাহার জন্য ১ হাজার টাকা করে দিতে প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা সভাধিপতি বলেন, মোবাইলে স্নেহের পরশ অ্যাপ ডাউনলোড করে খুব সহজে অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মালদার আটকে পড়া শ্রমিক হিসেবে মোট ৮৬,০০০ আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে জমা পড়ে। এরপরে ওই আবেদনগুলির বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাতে ৪৬,০০০ আবেদন বৈধ বলে গণ্য হয়েছে। বাকি ৪০ হাজার আবেদন বাতিল হয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক আবেদন বাতিলের কারণ হিসেবে জেলা সভাধিপতি বলেন, অনলাইনে করা আবেদনের প্রক্রিয়ায় দেখা যায়, অনেকে মুম্বই, দিল্লি, কেরল বা পঞ্জাবে আটকে পড়েছেন বলে আবেদন করেছেন। কিন্তু তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, ৪০ হাজার জন মালদায় বসেই আবেদন করেছেন। এটা গুগুল ম্যাপিংয়ে সাহায্যে ধরা পড়ে যায়। সেই সব আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যের মধ্যে মালদাতেই সর্বাধিক সংখ্যক বৈধ আবেদনকারী ছিলেন। এরা প্রত্যেকেই স্নেহের পরশ প্রকল্পে এককালীন এক হাজার টাকা করে হয় পেয়ে গিয়েছেন বা পেয়ে যাবেন।

- Advertisement -

এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিক জেলায় ফিরে এলে তাঁদের পরীক্ষানিরীক্ষা করা ও নজরদারিতে রাখার ব্যাপারে জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও জানান গৌরচন্দ্র মণ্ডল। তাঁদের তথ্য অনলাইন পোর্টালে জেলা প্রশাসনের কাছে রয়েছে, যা রাজ্য সরকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জেলায় ফিরে আসার পর শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এতজন শ্রমিককে কোয়ারান্টিনে রাখার কোনও প্রশ্ন নেই। যাঁদের সর্দি-জ্বর-কাশির উপসর্গ দেখা দেবে, কেবলমাত্র তাঁদেরই কোয়ারান্টিন সেন্টারে রাখা হবে। বাকিদের বাড়িতেই পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এই বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের লালার নমুনা কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে মালদা মেডিকেলের এমএসভিপি অমিত দাঁ বলেন, যাঁদের বিভিন্ন রকম উপসর্গ থাকবে, তাঁদের চিহ্নিত করে টেস্ট করা হবে। সকলের টেস্টের প্রয়োজন নেই।