ভোটের সময় ৪০ হাজার শ্রমিকের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা শীতলকুচিতে

131

মনোজ বর্মন, শীতলকুচি : প্রতিবার বৈশাখের শেষে ভিনরাজ্যের ইটভাটায় কর্মরত শ্রমিকরা শীতলকুচির গ্রামগুলিতে ফিরে আসেন। কিন্তু শীতলকুচি বিধানসভায় ভোট রয়েছে চৈত্র মাসের শেষ দিকে। মালিকপক্ষের তরফে এখনও শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। আর এতেই যেন এবারের ভোটে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে শীতলকুচির প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিকের। শীতলকুচি আসনে ওই শ্রমিকরাই ভোট ফ্যাক্টর। তাই ভোটারদের ভোটের আগে গ্রামে ফেরাতে তৎপরতা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে। বিজেপি তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বলেছে, রাজ্যে কাজ নেই বলেই বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীকে ভিনরাজ্যে যেতে হয়েছে। তৃণমূল কটাক্ষকে গুরুত্ব দেয়নি।

শীতলকুচির শ্রমিকরা কর্মসূত্রে বিহার, অসম সহ বিভিন্ন রাজ্যে ইটভাটায় রয়েছেন। প্রতি বছর আশ্বিন ও কার্তিক মাসে ইটভাটায় কাজ করতে যান শীতলকুচি ব্লকের শ্রমিকরা। ফোন মারফত কয়েকজন ইটভাটার শ্রমিকের বক্তব্য, এখনও ইটভাটার মালিক নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটির ব্যাপারে কিছু বলেননি। তাই আমাদের ভোট দিতে আসা না-ও হতে পারে।  শীতলকুচি বিধানসভার ভোটে যে ইটভাটার শ্রমিকরা ফ্যাক্টর, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছে সব রাজনৈতিক দল। যদিও নেতারা নিজের দলের সমর্থকদের ভোটের আগেই বাড়ি ফিরে আসার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে জানিয়েছেন।

- Advertisement -

এই ইটভাটায় শ্রমিকদের ঘরে ফেরার বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব আজাদ বলেন,  তৃণমূল কংগ্রেসের যে সমস্ত কর্মী রুজির তাগিদে ইটভাটায় কাজ করতে গিয়েছেন, তাঁরা যাতে ভোটের আগে বাড়ি ফিরে আসেন,  সে ব্যাপারে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা বিজেপির সর্বভারতীয় তপশিলি মোর্চার সহ সভাপতি হেমচন্দ্র বর্মন বলেন, নিজের এলাকায় কাজ নেই বলেই বাধ্য হয়ে ভিনরাজ্যে ইটভাটায় কাজ করতে যেতে হয়েছে গ্রামের বাসিন্দাদের। তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে মানুষের। ভোট বিপক্ষে যাবে বলেই ইটভাটার শ্রমিকদের ঘরে ফেরাতে তৃণমূলের মাথাব্যথা নেই। আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

মাথাভাঙ্গার মহকুমা শাসক অচিন্ত্যকুমার হাজরা বলেন, বাইরে থাকা শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার ব্যাপারে কমিশন কোনও নির্দেশ জানায়নি। ভোটের দিন সকলে যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে।