৪০ বছরের আন্দোলন সফল, নোনা নদীর ওপর সেতু পেয়ে খুশি বাসিন্দারা

77

হেমতাবাদ: পাঁচ বছর ধরে টানা আন্দোলন অবশেষে সফল। শুরু হল নোনা নদীর উপর সেতু বানানোর কাজ। ২৬ মিটার লম্বা ও ২০ ফুট চওড়া সেতুর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৬০ লক্ষ টাকা। স্বভাবতই সেতু পেয়ে খুশির হাওয়া বইছে হেমতাবাদ বিধানসভার অন্তর্গত ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের মধ্যে। ওই সেতু তৈরি হলে কেবল নোনা নদীর পাড়ের বাসিন্দারাই নয় গোটা ভাটোল এলাকার বাসিন্দারা উপকৃত হবে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪০ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছেন এলাকাবাসীরা। এতদিন সেতু না থাকায় বর্ষাকালে নৌকার উপরই ভরসা করতে হত সকলকে। গরমের সময় নদীর জল কমে গেলে দুর্বল বাঁশের সেতু দিয়ে কোনরকমে পারাপার করতে হয়। সেভাবে পার হতে গিয়ে আগে বহুবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও মুমূর্ষু রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে ওই সাঁকোতে নদী পারাপার করা সম্ভব নয়। ফলে নদীর ওপারের তাজপুর, কুলিয়ারা, ঝিনুকপুর, মোহনপুর, গোপালপুর, সারিয়াডাঙ্গি সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দাকে নিত্যদিন ভোগান্তি পোহাতে হত। সমস্যার কথা লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল প্রশাসনকে। তবে, কাজ কিছুই হচ্ছিল না। শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী গোলাম রব্বানী, তৎকালীন উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী গৌতম দেবের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে কয়েকশো গ্রামবাসী পঞ্চায়েত অফিসে তালা মেরে আন্দোলনে নামেন। প্রশাসনের আশ্বাসে সেই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। বর্তমানে সেই আশ্বাস মতোই কাজ শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

ভাতুন এলাকার বাসিন্দা বিশুয়া দাস বলেন, ‘নদীর ওই পারে ৬টি বুথ রয়েছে। নোনা নদীর ওপর সেতু না হওয়া বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিল ওই অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ।‘

উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন বলেন, ‘ভাতুন এলাকার বাসিন্দাদের দাবি মত জেলা পরিষদের তরফে তড়িঘড়ি সেতু নির্মাণের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ওই এলাকার মানুষ তাঁদের নিত্যদিনের কষ্ট থেকে মুক্তি পাবেন।‘