কোচবিহার : কোচবিহারের রাজ আমলে ব্যবহৃত ৪৬টি নারায়ণী মুদ্রার হদিস মিলছে না। কোচবিহার কোতোয়ালি থানায় রাখা ছিল সেগুলি। ২০০৬ সালে কোচবিহারের সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পেছনে মাটির নীচ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর মুদ্রাগুলিকে কোতোয়ালি থানার মালখানায় রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ১২টি মুদ্রা পাওয়া গেলেও বাকি ৪৬টি মুদ্রার হদিসই নেই। ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। রাজবাড়ির জাদুঘরে কয়েক গ্যালারি করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের আধিকারিকরা।

কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের আধিকারিক ডঃ সুনীলকুমার ঝা বলেন, প্রশাসনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী কোচবিহার কোতোয়ালি থানার মালখানায় ৫৮টি নারায়ণী মুদ্রা রয়েছে। মুদ্রাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই আমরা নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার জন্য চেয়ে আসছি। জেলাশাসক কৌশিক সাহা ও পুলিশ সুপার গত ১৫ মার্চ জানিয়েছিলেন, দুই-একদিনের মধ্যে কোতোয়ালি থানার মালখানায় থাকা ওই কয়েনগুলি রাজবাড়ির ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এরপর কোতোয়ালি থানার কাছে কয়েনগুলি একাধিকবার চাওয়া হলেও তারা মাত্র ১২টি কয়েন দিয়েছে। বাকি কয়েনগুলি পাওয়া যাচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছে। সুনীলবাবু বলেন, দুষ্প্রাপ্য কয়েনগুলি কেন পাওয়া যাচ্ছে না জানি না। রাজবাড়িতে কয়েন গ্যালারির জন্য তাদের ঘর মোটামুটি প্রস্তুত রয়েছে। তবে কয়েনগুলি না পাওয়ায় গ্যালারির কাজ থমকে রয়েছে। রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষের হেপাজতে ২৭টি কয়েন রয়েছে। ওই ৫৮টি কয়েন পাওয়া গেলে ৮৫টি কয়েন হত। ফলে গ্যালারি চালু করা যেত। কিন্তু কয়েনগুলি না পাওয়া গেলে গ্যালারি কীভাবে চালু হবে?

তবে এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ৫৮টি মুদ্রা একসঙ্গেই রাখার কথা। যদি ১২টি মুদ্রা পাওয়া য়ায়, তাহলে বাকিগুলি গেল কোথায়? তবে শুধু মুদ্রাই নয়, তার সঙ্গে একটি থালা ও পাত্রও ছিল। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে মুদ্রাগুলি কি হারিয়ে গিয়েছে? আর এতেই আতঙ্ক বাড়ছে। কারণ, এর আগেও কোচবিহারের সরকারি এবিএন শীল কলেজের জাদুঘর থেকে দুষ্প্রাপ্য দশটি মুদ্রা গায়েব হয়ে গিয়েছে। তা নিয়ে কোচবিহারে ব্যাপক শোরগোল পড়েছিল। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোতোয়ালি থানার মালখানায় যে নারায়ণী মুদ্রাগুলি থাকার কথা সেগুলি খুবই দামি ও উন্নতমানের। জানা গিয়েছে, রাজ আমলে এই নারায়ণী মুদ্রাগুলি কোচবিহার ছাড়াও অসম, মণিপুর সহ উত্তর-পূর্ব ভারতে বিভিন্ন জায়গায় চলত। এছাড়া ভুটানেও এই নারায়ণী মুদ্রার চল ছিল। মুদ্রাগুলি ১৫৫৫ থেকে ১৫৮১ সালের মহারাজা নরনারায়ণের আমলের। মুদ্রাগুলি সবই রুপোর তৈরি। দুপাশে বিভিন্ন রাজার ছবি রয়েছে। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কোচবিহারের সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের পেছনে একটি মাঠে গোল পোস্ট তৈরির জন্য মাটি কাটার সময় মাটির নীচ থেকে একটি পাথরের থালা ও একটি ধাতব কৌটোর মধ্য থেকে অজস্র নারায়ণী মুদ্রা পাওয়া যায়। মুদ্রাগুলির বেশিরভাগই লুট হয়ে য়ায়। খবর পেয়ে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে অবশিষ্ট মুদ্রাগুলি উদ্ধার করে। এরপর থেকেই মুদ্রাগুলি কোতোয়ালি থানার মালখানায় রয়েছে।