ব্রাউন সুগার পাচারে দুই ছাত্র সহ ধৃত ৫

174

জয়গাঁ: দিনের আলো নেভার পড়েই ভুটানের সীমান্তবর্তী শহর জয়গাঁয় শুরু হয়ে যায় মাদক সেবনের রমরমা। সন্ধ্যার আলো আধাঁরে মাদকের টানে ঘরের বাইরে বের হয়ে আসে যুব সমাজের অনেকেই। এরপর রাত যত গভীর হতে শুরু করে মাদক সেবনের মাত্রাও বাড়তে শুরু করে। সীমান্ত শহরের মাদক জালে প্রথমে অনেকেই ক্রেতা হয়ে প্রবেশ করে। পরে ওই ক্রেতাদের একাংশ মাদক চোরা চালানের সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি জয়গাঁ থানার পুলিশ জয়গাঁ ও সংলগ্ন এলাকায় মাদকের রমরমা বন্ধ করতে ধারাবাহিক ভাবে অভিযান শুরু করেছে। আর পুলিশের অভিযানে লাগাতার ধরা পড়ছে বিভিন্ন বয়সের মাদক কারবারিরা।

শুক্রবার সকালে জয়গাঁ থানার পুলিশ মাদক পাচারের একটি দলকে গ্ৰেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ধৃত ৫জনের মধ্যে ২জন ছাত্র রয়েছে। আর এতেই পুলিশের উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছে। এদিন গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮-এর দলসিংপাড়ার কাছে জিএসটি মোরে নাকাচেকিং শুরু করে। বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ ২টি মোটর বাইকে আসা ৫জনের দেহ তল্লাশি করে পুলিশ উদ্ধার করে প্রায় ১০০ গ্ৰাম ব্রাউন সুগার। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩লক্ষ টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

- Advertisement -

জয়গাঁর মংলাবাড়ির বাসিন্দা ধৃত তেজ বাহাদুর সুব্বা (৩১), অজয় তামাং (২৪) ও রামগাওঁয়ের বাসিন্দা রশিদুল রহমান ওরফে মংলু (২৬) ছাড়াও ধৃত ১৮ বছরের দুই ছাত্র পুলিশের হাতে ধরা হয়েছে। ওই দুই ছাত্র স্থানীয় একটি স্কুলের পড়ুয়া বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে শিলিগুড়ি থেকে ব্রাউন সুগার সংগ্ৰহ করে জয়গাঁয় পাচারের পরিকল্পনা ছিল দুষ্কৃতী দলটির। মূলত নেপাল ও বাংলাদেশ থেকে শিলিগুড়ির মাদক কারবারীদের হাতে পৌঁছোয় ব্রাউন সুগারের মাতো মাদক। সেখান থেকেই ভুটান সীমান্তে পৌঁছে যায় ওই মাদক।

পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে ধৃত তেজ বাহাদুর ও রশিদুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবারে যুক্ত। সেই তুলনায় কিছুটা নবীন অজয় তামাং। তবে যে দুই ছাত্র এদিন ধরা পড়েছে তারা অন্য দুষ্কৃতীদের কাছ থেকে প্রথমে মাদক কিনত। পড়ে মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে না পারায় তারাও ওই অবৈধ ব্যবসায় সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ে। দুই ছাত্রের মাদক যোগের ঘটনাকে পুলিশ অসনীর সংকেত হিসাবে দেখতে শুরু করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।

এদিন সন্ধ্যায় জয়গাঁ থানায় এরজন্য পুলিশের তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘটনার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। জয়গাঁ থানার ওসি অভিষেক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ধৃতদের মধ্যে দুজন ছাত্র থাকায় বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া হচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার অভিযান চালিয়ে অবৈধ ঘুমের ওষুধ সহ ২জন দুষ্কৃতীকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। আমরা শহরে মাদকের রমরমা রুখতে লাগাতার অভিযান চালানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওসি বলেন ধৃতদের শনিবার আলিপুরদুয়ার মহকুমা আদালতে তুলে পুলিশি হেফাজতের আবেদন আদালতে জানাব।’ রিমান্ডে এনে সম্পূর্ণ মাদকচক্রটি ধরার চেষ্টা করব বলে জানিয়েছেন জয়গাঁ থানার ওসি।