দোলে গণধর্ষণের শিকার ২ নাবালিকা, গ্রেপ্তার ৫

72
প্রতীকী ছবি

বর্ধমান: দোল উৎসবের দিনে গণধর্ষণের শিকার হল আদিবাসী পরিবারের দুই নাবালিকা। ভোটের মুখে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সোমবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে। গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচ ব্যক্তি একই গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেয়। গণধর্ষণের শিকার দুই নাবালিকাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। সেখানে তাঁদের মেডিকেল টেস্টও করা হয়। দুই নাবালিকা ও তাদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার অভিযানে নামে। সোমবার বিকেলে পুলিশ পাঁচ অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দুই নাবালিকার পরিবার।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা সকলেই আউশগ্রামের বাসিন্দা। ধৃতদের মধ্যে চারজনই বিবাহিত। তাদের প্রত্যেকেরই বয়স তিরিশের ঊর্ধ্বে। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতরা ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মানলা রুজু করে ধৃত পাঁচজনকে মঙ্গলবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে আউশগ্রাম থানার পুলিশ।

- Advertisement -

পুলিশ ও নাবালিকাদের পরিবার সদস্যরা জানিয়েছে, গণধর্ষণের শিকার হওয়া নাবালিকারা আউশগ্রাম জঙ্গল মহলের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা। নির্যাতিতা নাবালিকাদের একজন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। এক নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো রবিবার বিকেলেও তাঁর নাবালিকা মেয়ে ও মেয়ের বান্ধবী খেলতে যায়। নাবলিকার বাবা জানান, রাত প্রায় ৮টা বেজে গেলেও নাবালিকা মেয়েরা কেউ বাড়ি না ফেরায় তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। এরপর মেয়েদের খুঁজতে তাঁরা ওই খেলার জায়গায় যান। সেখানে মেয়েদের খোঁজাখুজি করছিলেন। সেখান থেকে কিছুটা দূরে জঙ্গলের মধ্যে দুই নাবালিকাকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপরই নাবালিকারা পরিবারের লোকজনকে জানায়, খেলার সময় গ্রামেরই পাঁচ ব্যক্তি তাদের কাছে যায়। ওই ব্যক্তিরা তাদের মুখ চেপে জোর করে পাশের গভীর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

পরিবারের লোকজন রাতেই দুই নাবালিকাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাবালিকাদের শারীরিক অবস্থা দেখে পুলিশে খবর দেন। হাসপাতালে গিয়ে নাবালিকাদের বয়ান রেকর্ড করে পুলিশ। শারীরিক অবস্থা খারাপ থাকায় দুই নাবালিকাকে রাতেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। এরপর ওই রাত থেকেই পুলিশ পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের তৎপরতা শুরু করে।