তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে গ্রেপ্তার পাঁচ বিজেপি কর্মী

61

বর্ধমান: ভোট প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর সহ কর্মীদের মারধরের অভিযোগে প্রেপ্তার পাঁচ বিজেপি কর্মী। ধৃতরা ইউসুফউদ্দিন দফাদার, রুবেল বিশ্বাস, অসীম কোলে, রাজু সরকার ও মানস কুমার মণ্ডল। ধৃতরা মেমারি থানার জোয়ানপুর ও নওহাটি গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পাঠানো হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ইউসুফউদ্দিন ও রাজুকে ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। এদিকে লকআপেই ইউসুফউদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিচারকের সামনেই তিনি সংজ্ঞা হারান। ধৃতদের আইনজীবী চন্দন গোস্বামী আদালতে জানান, ধৃতদের মধ্যে চার জন মারধরে জখম হয়। তাদের মেমারি হাসপাতালে ভরতি করার পর বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ইউসুফউদ্দিনের স্যালাইন চলছিল। পুলিশ জোর করেই স্যালাইনের চ্যানেল খুলে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে। এরপরেই পুলিশি হেপাজতের আবেদন খারিজ করে ইউসুফউদ্দিনকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার নির্দেশ দেন বিচারক। অন্যদিকে, রাজুকে ২ দিনের পুলিশি হেপাজত এবং বাকিদের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেপাজতে নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশ জানিয়েছে, মেমারি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য্যের সমর্থনে শনিবার প্রচার মিছিল চলছিল। কোনও অনুমতি ছাড়া হওয়া সেই প্রচার মিছিল দুপুরে মেমারির নওহাটি গ্রামে পৌঁছোলে অশান্তি বাধে। অভিযোগ, বিজেপির লোকজন এমদাদ আলি খান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালানোর পাশাপাশি তাঁর বাড়ি থেকে সোনার গয়না ও ২ লক্ষ টাকা লুট করে। এছাড়াও ২টি বাইক ও ১ টি চারচাকা গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একইসঙ্গে এলাকার আরও কয়েকটি বাড়িতেও ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি বিজেপির কর্মীরা তৃণমূলের পার্টি অফিসে ভাঙচুর করে। ঘটনা পরেই এমদাদ আলি মেমারি থানায় ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে।

- Advertisement -

বিজেপি প্রার্থী ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য্য যদিও হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘পুলিশের সামনেই আমাদের প্রচার মিছিলে হামলা চালানো হয়েছিল। আমাদের দলের কয়েকজন জখম হয়েছে। তা সত্ত্বেও পুলিশ বেছে বেছে জখম বিজেপি কর্মীদেরই গ্রেপ্তার করেছে।’