রোজগারের আশায় কাশ্মীরে যাওয়াই কাল হল মুর্শিদাবাদের শ্রমিকদের

382

মুর্শিদাবাদ, ৩০ অক্টোবরঃ রাজ্যে কর্মসংস্থান না থাকার কারণে বাইরে নিজের রুজির জন্য যেতে হয় সাধারণ শ্রমিককে। ঠিক একইভাবেই একটু ভাল রোজগারের আশায় কাশ্মীরে পাড়ি দিয়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘির বাহাল নগর গ্রামের ৬ শ্রমিক। অথচ সেখানেই জঙ্গীদের হাতে খুন হতে হল নইমুদ্দিন শেখ, মুরসালিম শেখ, রফিকুল শেখ, রফিস শেখ, কামারুদ্দিন শেখ। কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচল জহিউদ্দিন সরকার।এদিন সকাল থেকেই বহালনগর গ্রামের বাতাসে ছিল কান্নার রোল। গ্রামের ৫টি বাড়ির মৃত্যু শোকে সামিল হন অন্য বাসিন্দারাও। নইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী আবেদা বিবি কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে জানান, বাড়িতে দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। অভাবের সংসারে কোনওরকমে দিন চলত। বছরের বাকি সময় গুলোতে স্বামী অন্যত্র কাজ করলেও, অক্টোবর মাসে একটু বেশী টাকা উপার্জনের জন্য কাশ্মীরে যেতেন কাজ করতে। এবারও গত একমাস ধরে সেখানে কাজ করছিলেন, মঙ্গলবারই বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনে চাপার কথা ছিল। তিনি বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র রোজগেরে বলতে আমার স্বামী। এবার আমাদের সংসার কীভাবে চলবে বুঝতে পারছিনা। একই পরিস্থিতি বাকি চারজনের পরিবারেরও। মৃত কামারুদ্দিনের পরিবারের থেকে জানা গেল তার বড় মেয়ের অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য বাড়তি রোজগার করতে কাশ্মীরে কাজের জন্য গিয়েছিলেন৷ কামারুদ্দিনের স্ত্রী বুঝেই পাচ্ছেননা এবার সংসার কীভাবে চলবে, মেয়ের অপারেশনের জন্য টাকাই বা আসবে কোথা থেকে।