গাজোলে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৫

350

গাজোল: নতুন করে ৫ করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলেছে গাজোলে। তবে এঁরা কিন্তু কেউই পরিযায়ী শ্রমিক নন। এঁদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মী, দু’জন ব্লক দপ্তরের কর্মী, একজন ভিলেজ পুলিশ এবং অপর একজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে নতুন করে যাঁরা সংক্রামিত হয়েছেন তাঁরা প্রতিদিনই কাজের সূত্রে প্রচুর মানুষের সংস্পর্শে এসেছেন। উদ্বেগ বাড়ল স্বাস্থ্য দপ্তরের।

আক্রান্ত ৫ জনের মধ্যে ২ জনকে নিয়ে আসা হয়েছে গাজোল কলেজের সেফ হাউসে। বাকি ৩ জন রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। অন্যদিকে সংক্রমণ রুখতে সোমবার থেকে গাজোল ব্লকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আংশিক লকডাউন শুরু হচ্ছে। এদিন যে পাঁচজন করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গেছে তার মধ্যে চারজনের বাড়ি গাজোলে। অপর একজনের বাড়ি চাঁচলে। তিনি গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে কর্মী বলে জানা গিয়েছে। তবে তাঁর তেমন কোনো উপসর্গ না থাকায় বর্তমানে বাড়িতেই হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

অন্য ২ জন আক্রান্ত রতুয়া ব্লক দপ্তরের কর্মী। তাঁদের একজনের বাড়ি গাজোলের শংকরপুরে। অপর জনের বাড়ি রামকৃষ্ণ পল্লী এলাকায়। তবে তাঁদের দুজনেরই কোনো উপসর্গ না থাকায় তাদেরকে আপাতত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও গাজোল থানার একজন ভিলেজ পুলিশ আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর বাড়ি সাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাদনাগরা গ্রামে। এদিন স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে গাজোল কলেজের সেফ হাউসে। আর একজন যিনি আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর বাড়ি আলমপুর। জানা গিয়েছে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া আলমপুর শাখার গ্রাহকদের তিনি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন। নিচে বসে গ্রাহকদের বিভিন্ন ফর্ম ফিলাপ সহ অন্যান্য কাজ তিনি করে দিতেন। এদিন তাকেও নিয়ে আসা হয়েছে গাজোল কলেজের সেফ হাউসে।

গত শনিবার আরও কিছু মানুষের লালার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে তাঁদেরও রিপোর্ট চলে আসবে। নতুন করে আরও কেউ সংক্রমিত হয়েছেন কিনা পরে জানা যাবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে অল্প হলেও দ্রুত লালা সংগ্রহের কাজ চলবে।

এদিকে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, করোনা সংক্রমণ রুখতে এবং সাধারন মানুষের স্বার্থে গাজোল ব্লকেও আংশিকভাবে লকডাউন শুরু করা হচ্ছে। সকাল ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মাছ বাজার এবং সবজি বাজার। দুপুর দু’টো পর্যন্ত খোলা থাকবে অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান। তবে ওষুধ, দুধ এবং রেশন দোকানের আওতার বাইরে থাকবে। বাড়ির বাইরে কাজের জন্য যে সমস্ত মানুষ বের হবেন তাদের প্রত্যেককেই মাস্ক পড়তে হবে। সরকারি বিধি নিষেধ না মানলে পুলিশ প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।