উত্তরের আট জেলায় বকেয়া ৫০ হাজার শ্রমিকের মজুরি

1180

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি: কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা না দেওয়ায় উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার ৫০ হাজার শ্রমিক বিপাকে পড়েছেন। এই আটটি জেলায় মজুরি খাতে ১৪ কোটি ৯৪ লক্ষ টাকা বকেয়া রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে গ্রামীণ অর্থনীতির হাল এমনিতেই শোচনীয়। তার ওপর কাজ করেও প্রাপ্য মজুরি না পেয়ে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতির দপ্তরে প্রতিদিনই শ্রমিকরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে উত্তরের জেলাগুলিতে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং বিডিওদের কাছে বকেয়া মজুরির দাবিতে প্রায়দিনই ডেপুটেশন দিচ্ছেন শ্রমিকরা।

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাসিন্দা হেমেন বর্মন ১০০ দিনের কাজের টাকা এখনও পাননি। তিনি বলেন, কাজ করার পরও টাকা পাচ্ছি না। পঞ্চায়েত দপ্তরে বারবার যাচ্ছি। জানি না কবে টাকা পাব। আরেক শ্রমিক সুমতি রায় বলেন, আমরা সময়মতো মজুরি চাই। গত ২২ অগাস্ট পর্যন্ত সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে মজুরি খাতে মালদা জেলায় বকেয়ার পরিমাণ ৪ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। যা উত্তরের জেলাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। মালদার জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে বিষয়টি রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরকে জানিয়েছে। মালদার পরই রয়েছে কোচবিহার। এই জেলায় বকেয়ার পরিমাণ ৩ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা।

- Advertisement -

এছাড়া জলপাইগুড়ি জেলায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ, উত্তর দিনাজপুরে ৪৬ লক্ষ, দক্ষিণ দিনাজপুরে ১ কোটি ৪৮ লক্ষ, আলিপুরদুয়ার জেলায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ, দার্জিলিং জেলায় ৮২ লক্ষ এবং কালিম্পং জেলায় ৪৫ লক্ষ টাকা মজুরি খাতে বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে গোটা রাজ্যে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে মজুরি খাতে বকেয়ার পরিমাণ ৫৩ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা। ২ লক্ষ ৫৮ হাজার দিনমজুর তাঁদের প্রাপ্য মজুরি পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজ্যের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, দিল্লি থেকে বকেয়া মজুরি খাতের টাকা কবে পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে কেন্দ্রের কাছ থেকে কোনও নিশ্চিত আশ্বাস মেলেনি।

এ নিয়ে বিভিন্ন জেলা পরিষদের সভাধিপতিরাও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাসসরকার বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের উন্নয়নকে ব্যাহত করতে চক্রান্ত করছে। ১০০ দিনের কর্ম সুনিশ্চিত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ ভারতসেরা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আলিপুরদুয়ার জেলার ৬৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কর্মপ্রকল্প তৈরি হয়ে চলেছে। জেলার দিনমজুরদের ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মজুরি খাতে না আসায় তাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, সরকারের নির্দেশ অনুসারে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে শ্রমিকরা কাজ করেছেন। অথচ আমরা তাঁদের পারিশ্রমিক দিতে পারছি না। অন্যদিকে, কোচবিহার জেলা পরিষদের সভাধিপতি উমাকান্ত বর্মন বলেন, জেলায় মজুরি খাতের মোটা অঙ্কের টাকা আসেনি। বকেয়া অর্থ আদায়ে জন্য প্রয়োজন হলে আমরা শ্রমিকদের নিয়ে গণ আন্দোলনে শামিল হব। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কষ্ট করে শ্রমিকরা কাজ করেছেন। অথচ কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পের মজুরি খাতে ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা এখনও দেয়নি। ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের জেলায় ৭৯ লক্ষ ৪৭ হাজার ২৫৩ শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। মহিলাদের ক্ষেত্রে শ্রমদিবসের সংখ্যা ৪০ লক্ষ ৫ হাজার ৮৫৮। আমরা চাই, কেন্দ্রীয় সরকার দ্রুত প্রাপ্য বকেয়া মিটিয়ে দিক।