জলপাইগুড়িতে থমকে ৫৫টি শিল্পপ্রকল্প

137

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : প্লাস্টিক বা কার্টন তৈরির জন্য কারখানা, পরিস্রুত পানীয় জলপ্রকল্প, হিমঘর। জলপাইগুড়ি জেলায় শিল্পায়নের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও এমন প্রায় ৫৫টি শিল্পপ্রকল্প বাস্তবায়িত করা যাচ্ছে না। প্রথমে বিধানসভা ভোটের জন্য বিধিনিষেধ, আর এখন করোনার কোপ ঠেকাতে বিধিনিষেধের জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শিল্পপ্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত না হওয়ার জেরে জলপাইগুড়ির শিল্পায়নে বাধা পড়ার পাশাপাশি প্রায় সাত হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ থমকে রয়েছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের পর বিশেষজ্ঞরা করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন। তাই পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা কারও জানা নেই।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন নর্থবেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্পাদক পুরোজিৎ বকসিগুপ্ত বলেন, আমরা জলপাইগুড়ি জেলায় শিল্পায়নের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছন্দ করতে চাই। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সামনে সমস্যা তৈরি করেছে। করোনার ভয়ে সেভাবে কাজের শ্রমিক মিলছে না। জেলা শিল্পনিগমের ম্যানেজার চন্দন পাল বলেন, আদর্শ নির্বাচনবিধির জেরে ভোটের সময় সেভাবে কাজ করা যায়নি। তাছাড়া, করোনার জেরে সমস্যা তো রয়েছে। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা বলা শক্ত। সমস্যাকে কাবু করতে জেলা শিল্প দপ্তর কারখানার শ্রমিকদের কোভিড টিকাকরণের বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে বলে চন্দনবাবু জানান।

- Advertisement -

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে খবর, ২০১১-র মে মাস থেকে ২০২০-র সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলায় ৪৭৭টি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এগুলির পিছনে ৩২২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ৩,৮৪৪ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। ১৫৪টি প্লাস্টিক ও রাসায়ানিক সামগ্রীর কারখানার পিছনে ৯৫ কোটি ৯০ হাজার টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। ১,৪০২ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। কাঠজাত ৭০টি শিল্পপ্রকল্পের পিছনে ২৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়। ৬৪৫ জন এগুলিতে কাজের সুযোগ পান।

জেলায় শিল্পায়নের এই ধারাকেই অব্যাহত রাখতে আরও শিল্পপ্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। চা উৎপাদনের সূত্রে জলপাইগুড়ি জেলার আলাদা পরিচিতি আছে। জেলায় ২৫ হাজার ক্ষুদ্র চা বাগান আছে। চা পাতা প্রক্রিয়াকরণের জন্য উদ্যোগপতিদের একটি অংশ চা প্রক্রিয়াকরণ শিল্পস্থাপনে বিশেষভাবে আগ্রহী। এই আগ্রহ থেকেই ময়নাগুড়ির মাধবডাঙ্গায় ৪ কোটি টাকা,  মোহিতনগরে ৬ কোটি  ৬০ লক্ষ টাকা, ভোসকাডাঙ্গাতে ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা, মাঝগ্রামে ৫ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা, দশদরগার কার্জিপাড়ায় ৮ কোটি ১২ লক্ষ টাকা এবং রামশাইতে ৪ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা খরচ করে চা প্রক্রিয়াকরণ শিল্পস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগপতিরা প্রত্যেকেই জমি নিয়েছেন। কিন্তু করোনার জন্য কাজের অগ্রগতি ঘটাতে পারছেন না।

প্লাস্টিকের কারখানা তৈরির জন্য ফুলবাড়িতে জায়গা নেওয়া হয়েছে। এই ইউনিটের জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। পরিস্রুত পানীয় জলপ্রকল্পের জন্য শিলিগুড়ির জ্যোতিনগরে জায়গা নেওয়া হয়েছে। এজন্য ৯৪ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। আমাইদিঘিতে ফোম তৈরির কারখানার জন্য ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিপাইপাড়াতে চাল তৈরির কারখানার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ৮৯ লক্ষ টাকা খরচ হবে। বলরামে ৮৪ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি বেকারি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখানে আয়রন শিট তৈরির জন্য ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। ঘুঘুমারিতে তাঁতের শাড়ি তৈরির কারখানার জন্য ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। ডাবগ্রামে একটি পেপার মিল করার জন্য ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। লাটাগুড়িতে একটি আধুনিক হোটেল তৈরির জন্য ৮৮ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পগুলির কাজ থমকে থাকলেও অচিরেই সমস্ত সমস্যা মিটে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সবাই আশা করছে।