ভয়ঙ্কর বিপদের সামনে পড়তে পারেন করোনাজয়ীরা, সতর্ক করল আইসিএমআর

239

নয়াদিল্লি: করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে জেরবার দেশ। শুক্রবার খানিকটা নিম্নমুখী সংক্রমণ। এটা যদি আশার আলো হয় তবে চিন্তিত হওয়ার কারণও রয়েছে যথেষ্টই। চিন্তার কারণ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর একটি সমীক্ষা। সমীক্ষা বলছে, কোভিডের পর যাঁদের ব্যাকটিরিয়া বা ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি অংশের মৃত্যু হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৫৬.৭ শতাংশ। করোনার পর ব্যাকটিরিয়া বা ছত্রাকঘটিত সংক্রমণের বিষয়টিকে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে আইসিএমআর। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন ও বেশি সময় হাসপাতালে থাকার কারণে সেকেন্ডারি ইনফেকশনের সম্ভাবনা থাকে বলে জানিয়েছে আইসিএমআর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেকেন্ডারি সংক্রমণের উৎসস্থল হাসপাতাল।

করোনা জয় করে সুস্থ হওয়ার পর অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন মিউকরমাইকোসিস (ব্ল্যাক ফাঙ্গাস) ও হোয়াইট ফাঙ্গাসে। আইসিএমআর-এর রিপোর্ট বলছে, করোনা মুক্ত হওয়ার পর যাঁদের মিউকরমাইকোসিস (ব্ল্যাক ফাঙ্গাস), হোয়াইট ফাঙ্গাস বা অন্য কোনও ব্যাকটিরিয়া বা ছত্রাকঘটিত সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হচ্ছে। এমনকী এই সময় ভাইরাসঘটিত যেকোনও সাধারণ সংক্রমণও প্রাণঘাতী হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যার ফলে অন্য রোগ সহজেই আক্রমণ করে। যেকারণে বর্তমানে ব্যাকটিরিয়া বা ছত্রাকঘটিত রোগের বাড়বাড়ন্ত।

- Advertisement -

আইসিএমআর ১৭ হাজার ৫৩৪ জন রোগীর ওপর সমীক্ষা চালিয়েছিল। তাঁরা সকলেই আইসিইউতে ভরতি ছিলেন। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভর্তি থাকা ৩.৬ শতাংশ রোগী ব্যাকটিরিয়া বা ছত্রাকঘটিত রোগ (সেকেন্ডারি ইনফেকশন)-এ সংক্রামিত হয়েছেন। রিপোর্ট বলছে, ব্যাকটিরিয়া বা ছত্রাকঘটিত রোগে সংক্রামিতদের ৫৬.৭ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় মৃত্যু হারের তুলনায় যা অনেকগুণ বেশি।