ট্যাঙ্কার থেকে ৫৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫

403

আসানসোল: তেলের ট্যাঙ্কার থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম বর্ধমানে। আর সেই গাঁজার সূত্র ধরে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনকে জেরা করে আন্তঃরাজ্য পেট্রোল ও ডিজেলের চোরাকারবারি চক্রের হদিস পেল আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত পাঁচ জনের মধ্যে ২ জন কলকাতা, ২ জন বিহার ও ১ জন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে ২ জনকে আপাততঃ আসানসোল উত্তর থানার পুলিশের অধীনে ১০ দিনের রিমান্ডে আছে। এই চক্রের মূল পান্ডা বা মাষ্টারমাইন্ডের খোঁজ করছে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ।

- Advertisement -

সূত্রের খবর, গত সোমবার রাতে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ ২ নম্বর জাতীয় সড়কের গাড়ুইয়ের পুরনো টোল প্লাজার কাছে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একটি তেল ট্যাঙ্কারকে আটকায়। পুলিশের কাছে আগাম খবর ছিল যে, ওই ট্যাঙ্কার করে কিছু পাচার হচ্ছে। পুলিশ দেখেই ট্যাঙ্কার থামিয়ে চালক, খালাসি সহ ৫ নেমে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ ৫ জনকেই ধরে ফেলে। ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ কেবিনের মধ্যে যেখানে চালক ও খালাসি বসা সিটের তলা থেকে দুটি প্যাকেট পায়। প্যাকেট দুটিতে ২০ কিলো ৬৫০ গ্রাম ও ৩৬ কিলো ১০০ গ্রাম গাঁজা ছিল। গাঁজা পাচার করার জন্য সিটের তলায় নিখুঁতভাপ বক্স বা খোপ করা হয়েছিল। বাইরে থেকে তা খালি চোখে বোঝা খুব মুশকিল।

পুলিশ জানিয়েছেন, অরবিন্দ যাদব ওরফে অরবিন্দ হরিবংশ যাদবের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের মীরগঞ্জ থানার বড়কি দাহিয়ায়, সমীর হোসেনের বাড়ি কলকাতার একবালপুর থানার খিদিরপুরে, মহঃ নাভেদ খানের বাড়ি একবালপুর থানার কদমতলা মহল্লায়। ছটু প্রসাদ চৌহান বিহারের বাঁকা জেলার জগৎপুর পাঁচওয়ারা থানার রাজবাঁধ গ্রামের বাসিন্দা। গোপালপুরা থানার বৃন্দাবন গ্রামের অরুপ নারায়ণ দেবের বাড়ি। মঙ্গলবার ধৃতদের আসানসোল আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের জামিন নাকচ করেন। অরবিন্দ যাদব ও সমীর হোসেনকে ১০ দিন পুলিশ রিমান্ড ও বাকিদের জেল হাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

পুলিশ ধৃতদের জেরা করে জানতে পারে যে, তেল ট্যাঙ্কারের আড়ালে এরা গাঁজা পাচারের কাজ করত। এরা বাংলা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খন্ডের মধ্যে এই কাজ করত। রাষ্ট্রায়ত্ব তেল সংস্থার তেল ট্যাঙ্কার হওয়ায় রাস্তায় পুলিশ তাদের আটকাতো না। এই সুযোগটাই এরা ব্যবহার করত। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ গাঁজার পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য পেট্রোল ও ডিজেলের চোরাকারবারি চক্রেও হদিস পেয়েছে। তাদের এই তেল চুরি করার কায়দা জানার পরে পুলিশ হতবাক। বাংলার হলদিয়া থেকে বিহারের বারাউনি পর্যন্ত একটি রাষ্টায়ত্ব সংস্থার তেলের পাইপ লাইন গেছে। এই চক্রের সদস্যরা জানতো যে, কোন জায়গায় মাটির কতটা নিচ দিয়ে সেই পাইপ লাইন আছে। তারা বিশেষ কিছু জায়গায় সেই পাইপে একটা ফুটো করতো। সেই ফুটোয় বিশেষ ধরনের ডিভাইস লাগানো হত। তা দিয়ে এই চক্রের সদস্যরা মাত্র ৪৫ মিনিটে ২০ হাজার লিটার পেট্রোল বা ডিজেল চুরি করে ট্যাঙ্কারে ভরতো। এই পরিমাণ তেলের দাম বাজারে ১৫ লক্ষ টাকার মতো। কিন্তু এই চক্র তা ৮/১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতো। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে যে, এই চক্রের মাষ্টারমাইন্ড এক বড় বেসরকারি সংস্থার আধিকারিক। সে এদেরকে এই কাজের কৌশল শিখিয়েছে। পুলিশ তাঁর খোঁজ শুরু করেছে।