৫৬৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

174

রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৫৬৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে রাজ্যে পাঠানো রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি শিক্ষা দপ্তরের তরফে জেলার কাছে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারই পরিপ্রেক্ষিতে জেলা থেকে এই রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে সহকারী শিক্ষকরাই অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ সামলাচ্ছেন। এর ফলে প্রশাসনিক কাজ ও পঠনপাঠন চালাতে সমস্যা হচ্ছে। শিক্ষক সংগঠনগুলি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে।

উত্তর দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) দীপককুমার ভক্ত জানান, প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদের বিষয়ে জানতে চেয়ে রাজ্য দপ্তর রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। গত সপ্তাহে সেই রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। জেলায় ৫৬৪টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চৌহানের বক্তব্য, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য সংগঠনের তরফে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হলে তিনি জানান প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু রায়চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে বলে আসছি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। সেখানে শীঘ্রই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করা হোক। শিক্ষা দপ্তরের উদাসীনতার কারণে দীর্ঘদিন থেকে অনেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে আছে। টিআইসি দিয়ে কোনওরকমে কাজ চলছে।’ শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, সিনিয়রিটি হিসেবে প্রতিবছর প্রধান শিক্ষকদের প্যানেল তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু চার বছর থেকে এই জেলায় প্যানেল তৈরি হয়নি। সহকারী শিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রধান শিক্ষকের পদ সামলাচ্ছেন। কিন্তু তার জন্য তাঁদের প্রধান শিক্ষকের সমান বেতন দেওয়া হচ্ছে না। মিড ডে মিলের হিসেব, পোশাক, জুতো সহ অন্য কাজের হিসাব সামলে ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের। প্রাথমিকে শিক্ষকদের পদোন্নতি বলতে সিনিয়রিটি হিসেবে প্রধান শিক্ষকের পদ। দীর্ঘদিন থেকে এই প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় অনেক সিনিয়র শিক্ষক সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পেশাগত দিক থেকে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিভাবকরা জানান, প্রায় ১১ মাস লকডাউন ও আনলক পর্বে শিক্ষকদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়া চললেও, শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। সময়ের পরে আসো এবং সময়ের আগেই চলে যাচ্ছেন তাঁরা। স্কুলে পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার পরিকাঠামোর উন্নয়ন করেছে। চেয়ার, টেবিল, ফ্যান, শৌচাগার, মিড ডে মিল সহ একাধিক বিষয়ে পদক্ষেপ করেছে। তারপরও কিছু সমস্যা আছে। অভিভাবকদের বক্তব্য, স্কুল খুলে অল্প সংখ্যক পড়ুয়াদের নিয়ে পঠনপাঠন শুরু করলে পড়ুয়াদের অভ্যাস নষ্ট হত না। এদিকে করোনা পর্ব মিটলেও প্রাথমিকে স্কুল ছুটির সংখ্যা বাড়বে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

- Advertisement -