কালনায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় ৬ জন গ্রেপ্তার

640

বর্ধমান, ৬ সেপ্টেম্বরঃ বিজেপি কর্মী রবিন পালকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি সহ ৬ জন। ধৃতরা হল বাদল পাত্র, তপন পাল, তপন পাত্র, মমতা পাত্র, মহানন্দ পাল ও তাপস পাল। ধৃতরা সকলেই পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার পিণ্ডিরা পঞ্চায়েতের পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা। বাদল পাত্র তৃণমূলের স্থানীয় বুথ সভাপতি। মৃতের ভাই দানু পালের দায়ের করা অভিযোগে পিণ্ডিরা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুকুমার বাগেরও নাম রয়েছে। পুলিশ তার খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে। শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে কালনা থানার পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার ধৃতদের কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক তপন পাল ও তপন পাত্রকে ৯ দিনের পুলিশ হেপাজত ও বাকি ধৃতদের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এদিন বিজেপির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব স্বোচ্চার হন। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। পথ অবরোধও করা হয়েছিল।

বিজেপি কর্মী রবিন পালের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে শনিবার কালানা থানায় ১৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন মৃতর ভাই দানু পাল। তাঁর অভিযোগ শনিবার সকালে নিজের বাড়িতেই রবিন পাল কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দানু পাল বলেন, তাঁর দাদা বিজেপির সক্রিয় কর্মী। দাদা বিজেপি করার জন্য দাদার বাড়ির সীমানায় থাকা একটি গাছ কেটে দিতে যায় এলাকার শাসক দলের লোকজন। দাদা রবিন প্রতিবাদ করেন। সেজন্য তৃণমূলের লোকজন তাঁরা দাদাকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটায়। পাশাপাশি, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয়েছিল। দানু পালের অভিযোগ এই গোটা ঘটনার নেতৃত্ব দেয় তৃণমূল পরিচালিত পিণ্ডিরা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুকুমার বাগ। কালনার তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পুলিশ উপপ্রধান সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধেই খুনের মানলা রুজু করে ধরপাকড় শুরু করে। ইতিমধ্যেই ৬ জন খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

- Advertisement -

এদিন বিজেপির জেলা সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ, পর্যবেক্ষক সুবীর নাগ সহ অন্য নেতারা মৃত বিজেপি কর্মীর পাথরঘাটার বাড়িতে যান।তাঁরা মৃতের স্ত্রী ও নাবালিকা দুই মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন। পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপরেই বিজেপি নেতা ও কর্মীরা কালনার পান্ডুয়া মোড় এসটিকেকে রোড পথ অবরোধ করেন। তাঁরা রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় আধ ঘন্টা পথ অবরোধ করে রাখেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এদিন পাথরঘাটা সহ কালনার বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন রাখা হয়েছিল পুলিশ বাহিনী। কৃষ্ণ ঘোষ এদিন খুনের ঘটনায় জড়িত তৃণমূলের উপপ্রধান সহ সকল অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। কৃষ্ণ বাবু বলেন, মৃতের মেয়ের সঙ্গে এদিন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয় কথা বলেছেন। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করলে, বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে বলে কৃষ্ণ ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।