নবান্ন বৈঠকে এনআইএ কর্তা, ধৃত ৬ জঙ্গি গেল দিল্লি

470

নিউজ ডেস্ক: নবান্নে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক সারলেন এনআইএ-র এক পদস্থ কর্তা। সূত্রের খবর, ডিআইজি পদের ওই অফিসার সোমবার বিকেলে নবান্নে যান। আল কায়দা জঙ্গি যোগের সন্দেহে মুর্শিদাবাদ থেকে ধৃত ৬ অভিযুক্তকে সোমবার রাতেই দিল্লি নিয়ে গিয়েছে এনআইএ। তবে অধরাই থেকে গেল সন্দেহভাজন সপ্তম জঙ্গি মুন্না সরকার। এরপরই সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে ঢোকার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ধৃত আবু সুফিয়ান দাবি করে, তাদের কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল না।

যদিও প্রশাসন সূত্রে খবর, এ দিনের বৈঠকে সমন্বয় বৃদ্ধি ও তথ্য লেনদেনের উপরে জোর দেওয়ার দাবি করেছে রাজ্য। রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তা জানান, ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এ রাজ্যের সরকার সচেষ্ট। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির কাছ থেকে যথাযথ তথ্য পেলে আমাদেরও সুবিধা হয়।‘ অন্যদিকে, এনআইএ-ও জঙ্গি ঘাঁটির হদিসে রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির কথা বলেছে।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, রাত ন’টা তিনটি বিমানের প্রতিটিতে ২ জন করে জঙ্গিকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতি বিমানে একটি করে গোয়েন্দাদের দলও ছিল। আজ, মঙ্গলবার ধৃতদের পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের ডোমকল এবং জলঙ্গি থেকে ৬ জন আল-কায়দা জঙ্গিকে ধরে এনআইএ। আরও ৩ জঙ্গিকে ধরা হয় কেরলের এর্নাকুলাম থেকে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা তথা এনআইএ-র দাবি ছিল, পশ্চিমবঙ্গে ও কেরলে বসে রাজধানী দিল্লিতে হামলার ছক কষছিল আলকায়দা। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ তারিখে দিল্লিতে রুজু হয় একটি মামলাও।

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ধৃতদের থেকে তেমন কোনও তথ্যই মেলেনি যা দিয়ে দিল্লিতে নাশকতার তত্ত্ব প্রমাণিত হয়। তাই এনআইএ ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া ট্রানজিট রিমান্ডের ভিত্তিতে ধৃতদের দিল্লি নিয়ে গেল। সোমবার রাত ন’টা নাগাদ তিনটি বিমানের প্রতিটিতে ২ জন করে জঙ্গিকে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ, মঙ্গলবার ধৃতদের পাতিয়ালা হাউস কোর্টে পেশ করা হবে।

অন্যদিকে কেরল থেকে ধৃত ৩ জনকেও নিয়ে আসা হল দিল্লিতে। গোয়েন্দাদের কাছে এখন প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে জঙ্গিদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। জানা গিয়েছে, আলকায়দা যোগে ধৃতরা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত। সেই গ্রুপেই নতুন স্ট্র্যাটেজি, জঙ্গি নেতাদের বক্তব্য, জেহাদি দস্তাবেজ চালাচালি চলত।

সূত্রের খবর, মোট ন’জনকে এখনও পর্যন্ত ধরেছে এনআইএ। ছ’জনকে মুর্শিদাবাদ থেকে। এবং তিন জনকে কেরলের এর্নাকুলাম থেকে। ওই তিন জনও মুর্শিদাবাদেরই বাসিন্দা। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রের খবর, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বাকি ১৩ জনই নাকি মালদার।