মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার হামলায় জখম ৬

134

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: মানসিক ভারসাম্যহীন এক রোগী নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হল রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতলে। রবিবার বিকেলে কয়েকজন আয়া সহ নিরাপত্তারক্ষীর ওপর ওই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা হামলা করেন বলে অভিযোগ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘প্রায় আট মাস আগে ওই মহিলাকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় উদ্ধার করে এনে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালেই তার এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলা নাম ঠিকানা বলতে না পারায় তাকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছিল এবং তার সন্তানও হাসপাতালের নার্স, আয়াদের তত্ত্বাবধানেই গত আট মাস ধরে বেড়ে উঠছে। দীর্ঘদিন আগে সন্তান জন্ম দিলেও ওই মহিলাকে কয়েক মাস ধরে প্রসূতি বিভাগেই রাখা হয়েছিল। এই নিয়ে যদিও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

হাসপাতালের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদার বলেন, ‘হাসপাতালে একটি ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা বিষয়টি সামলে নিয়েছে।’ নিরাপত্তারক্ষীদের কর্ণধার বিকি সাহানি বলেন, ‘আমাদের দুই নিরাপত্তারক্ষী জখম হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই মহিলার হামলায় জখম হয়েছেন আয়ারাও। আয়া থেকে শুরু করে নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যেকেই জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে ইনজেকশন নেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়েছে।

- Advertisement -

প্রায় আট মাস আগে সন্তান সম্ভবা এই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে শীতগ্রাম থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় আশাকর্মীরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। যদিও ওই মহিলা নিজের নাম-ঠিকানা পরিচয় কিছুই বলতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে তাকে হাসপাতালেই রাখা হয়েছিল। এদিন রবিবার বিকেলে ওই মহিলা আচমকাই তার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে স্যালাইনের স্ট্যান্ড হাতে নিয়ে রীতিমতো মারমুখী হয়ে আয়াদের ওপর চড়াও হয়। দু’জন আয়া জখম হন।

পরে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে ওই স্যালাইনের স্ট্যান্ড হাতে নিয়ে হামলা চালায় নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর। দুজন নিরাপত্তারক্ষীও কমবেশি জখম হন। এরপর কোনওক্রমে ওই রোগীকে ধরে ওই ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। ওই ওয়ার্ডে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সদের আশঙ্কা, ওই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার যেকোনও মুহূর্তে আবার হামলা করতে পারে। স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সদের দাবি, মহিলাকে  বহমপুরে পাঠানো হোক ভালো চিকিৎসার জন্য।