ফুঁসলিয়ে বাড়িতে ডেকে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে

498

পুরাতন মালদা, 8 অগাস্ট: ছয় বছরের শিশুকে বাড়িতে ফুঁসলিয়ে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল এক প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদার মুচিয়া মহাদেবপুরে। ঘটনায় শারীরিক ও মানসিক ভাবে আহত শিশুটিকে মালদা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। মালদা থানায় ওই প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মেয়েটির পরিবার। যদিও ঘটনার পর আটচল্লিশ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও অধরা অভিযুক্ত।
শিশুর মা অভিযোগ করেছেন, বুধবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ টিউশন থেকে মেয়ে ফেরার পরই পাশের বাড়ির বছর পঞ্চাশের ওই প্রৌঢ় তাকে ফুঁসলিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। এরপর ফাঁকা ঘরে শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শিশুটির কাকিমা ওই সময় স্কুলে পাঠানোর জন্য তাঁকে ডাকতে গেলে কাঁদতে কাঁদতে অভিযুক্তের ঘর থেকে বেরিয়ে আসে বিবস্ত্র শিশুটি। তার হাতে গোঁজা ছিল কুড়ি টাকা। কাকিমাকে সে বলে গোটা ঘটনাটি। এরপর গ্রামে জানাজানি হতেই গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত। অত্যাচারের জেরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রথমে তাঁকে মৌলপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও পড়ে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের লোকেরা। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে গাজোলে কর্মরত ওই শিশুর বাবা তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছান এবং থানায় অভিযোগ করার তোড়জোড় শুরু করেন। অভিযোগ সেই সময় অভিযুক্তর দাদা এবং পরিবারের লোকেরা শিশুটির পরিবারকে টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। কথা না শোনায় তাদের প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। কিন্তু সেই হুমকিকে তোয়াক্কা না করে মালদা থানায় ওই প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা। বৃহস্পতিবার চিকিৎসার পর শিশুটিকে  হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও ঘটনার পর আটচল্লিশ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অধরা অভিযুক্ত। নির্যাতিতা শিশুর বাবা বলেন, ‘ওইটুকু শিশুর সঙ্গে যে কেউ এমন পাশবিক ব্যবহার করতে পারে তা ভাবা যায় না। ওই পৌঢ় সম্পর্কে পিসেমশাই হয়। টিভি দেখতে অনেক সময় ওর বাড়িতে আমার মেয়ে যেত। কিন্তু ওকে ফুসলিয়ে যেভাবে অত্যাচার চালানো হয়েছে তাতে ওই ব্যক্তির ফাঁসি চাইছি আমরা’। মালদা থানার পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্তকে খোঁজা হচ্ছে।