শিক্ষকের অভাবে চালু করা যায়নি ৬০টি আপার প্রাইমারি স্কুল

380

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : বাম আমলের শেষের দিকে কোচবিহারে নতুন করে ৩১০টি আপার প্রাইমারি স্কুল তৈরি করা হয়। এরপর ১০ বছরেরও বেশি সময় গড়িয়েছে। বামেরা গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু স্কুলগুলিকে কেন্দ্র করে উন্নয়নের স্বপ্ন আর পূরণ হল কই! শিক্ষকের অভাবে এর মধ্যে প্রায় ৬০টি স্কুল চালুই করা যায়নি। যে সমস্ত স্কুল চালু রয়েছে সেগুলির অনেকগুলিতে শিক্ষকের সমস্যা রয়েছে। বহু স্কুলে এখনও পর্যন্ত স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা যায়নি। অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনওমতে কাজ চালানো হচ্ছে। পরিকাঠামোগত সমস্যার জেরে অভিভাবকদের অনেকেই তাঁদের ছেলেমেয়েদের এই স্কুলগুলিতে ভর্তি করতে চান না। ফলে বহু স্কুল পড়ুয়ার অভাবে ভুগছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে শিক্ষক ও ছাত্র না থাকার কারণে কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বক্সিরকুঠি বাপুজি জুনিয়ার হাইস্কুলটি বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে। এর জেরে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন সমালোচনায় মুখর হয়েছে।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সংঘের জেলা সভাপতি সুমন কর্মকারের কথায়, বাম আমলে কেন্দ্রীয় অনুদান পাওয়ার লক্ষ্যে আপার প্রাইমারি বা জুনিয়ার হাইস্কুলগুলি অপরিকল্পিতভাবে চালু করা হয়। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকার ওই অপরিকল্পিত দূরদর্শিতাহীন নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এর জেরেই এই স্কুলগুলি কোথাও শিক্ষক, কোথাও বা পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে। এমনটা এই সরকারের উদাসীনতা ও অপদার্থতাকে প্রমাণ করে। নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, এই সরকার শিক্ষার বিস্তার চায় না। পাশাপাশি, শিক্ষক নিয়োগও বন্ধ করে দিয়েছে।  এ কারণেই সমস্যা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিঠুন বৈশ্য অবশ্য বলেন, আইনি জটিলতার কারণে বেশ কিছু স্কুল এখনও চালু করা যায়নি।

- Advertisement -

কোচবিহার জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক মিলিয়ে ২৬৮টি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে চারটি সরকারি স্কুল রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রতি দুই কিলোমিটার অন্তর একটি করে স্কুল রাখতে হয়। এই নিয়ম অনুযায়ী বামেরা তাদের আমলের শেষের দিকে কোচবিহারে আরও ৩১০টি আপার প্রাইমারি স্কুল তৈরি করে। কিন্তু মূলত শিক্ষক ও পরিকাঠামোগত সমস্যার জেরে এখনও পর্যন্ত এর প্রায় ৬০টি স্কুল চালুই করা যায়নি। যে স্কুলগুলি চালু রয়েছে সেগুলির একটি বড় অংশই কোনওমতে চলছে। পরিকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষকের অভাব সহ নানা কারণে এই স্কুলগুলি যে কোনও সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই তুফানগঞ্জের বক্সিরকুঠি বাপুজি জুনিয়ার হাইস্কুলটি বর্তমানে বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে বর্তমানে স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা পুরোপুরি শূন্যে এসে ঠেকেছে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধীরচন্দ্র দাস ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসর নিচ্ছেন। এরপর থেকে স্কুলটিতে শিক্ষক ও পডুয়া বলতে কেউই থাকবে না। এই অবস্থায় দপ্তর এই স্কুলটিকে বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। জেলায় আরও ৮-১০টি স্কুলেরও একই হাল হয়েছে। কেন স্কুলগুলির এই হাল হল সেই প্রশ্ন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপার প্রাইমারি স্কুলগুলির একটা বড় অংশে এমনিতেই পরিকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষকের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি, আপার প্রাইমারি হওয়ার কারণে অষ্টম শ্রেণির পর এখানকার পড়ুয়াদের অন্য স্কুলে যেতে হয়। এই ভোগান্তি এড়াতেই অভিভাবকদের অনেকে তাঁদের সন্তানদের এই স্কুলগুলিতে ভর্তি করাতে চান না। এর জেরেও সমস্যা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।