ষাটোর্ধ্ব উষার স্বপ্নপূরণ, প্রমাণ করলেন বয়স শুধু একটা নম্বর মাত্র

233

গান্ধীনগর: পড়াশুনা বন্ধ করিয়ে কুড়িতেই বিয়ে। সংসারের জাঁতাকলে পড়েও পড়াশুনার প্রতি আকর্ষণ হারাননি তিনি। প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায় পৌঁছে সম্পূর্ণ করলেন পিএইচডি। তাঁর জেদের কাছে হার মানল বয়সও।

গুজরাটের ভদোদরার উষা লোদয়া প্রমাণ করে দিলেন যে বয়স শুধু একটি নম্বর মাত্র। পড়াশোনায় এটি কোনও বাঁধা নয়। ছোট থেকেই ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। স্কুল-কলেজে সামনের সারিতেই থাকত তাঁর নাম। ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার কিন্তু স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে পা রাখতেই পড়ে গেল সেই স্বপ্নে দাঁড়ি। সংসারের চাপে বাধ্য হয়েই বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। মাত্র ২০ বছর বয়সেই হয়ে যায় বিয়ে।

- Advertisement -

উষাদেবীর গলায় আক্ষেপের সুর, যদিও বাবা-মা চেষ্টা করেছিলেন বিয়ের পর মেয়ে যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু তা আর হয়নি। এত কিছুর পরেও আশা ছাড়েননি উষাদেবী। মেধাবী কন্যা খুঁজেই নেন নিজের মেধা বিকাশের উপায়। সন্তান বড় হতে সাংসারিক দায়দায়িত্বর চাপ একটু কমতেই ফের পড়াশোনায় ফেরার চেষ্টা করেন উষাদেবী। তাঁর এই প্রচেষ্টায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন পুত্রবধূ। তার সহায়তায় খোঁজ পান অনলাইন কোর্সের।

উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ এবার কোনওভাবেই ছাড়তে নারাজ ছিলেন এই মেধাবী ছাত্রী। তাই বয়সের বাঁধাকে দূরে সরিয়ে মহারাষ্ট্রের শত্রঞ্জয় অ্যাকাডেমিতে জৈনইজম নিয়ে স্নাতকে অ্যাডমিশন নেন ষাটোর্ধ্ব উষা। অধ্যবসায়ের জোরে একের পর এক ডিগ্রির গণ্ডি পেরিযে যেতে থাকেন তিনি। স্নাতক, স্নাতকোরতর পেরিয়ে পিএইচডির জন্যেও নাম লেখান উষা দেবী। দিনে সাত-আট ঘণ্টা করে পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রমেই শেষ পর্যন্ত উষার জীবনে নতুন উষার উদয় ঘটালো।