স্বাস্থ্যকর্মীধের হেনস্তার অভিযোগে দুই মহিলা সহ গ্রেপ্তার ৭

226

বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স ও আয়াদের মারধরের অভিযোগে দুই মহিলা সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। হাসপাতালের স্টাফ নার্স অনিন্দিতা রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বর্ধমান থানার পুলিশ বুধবার বিকালে বর্ধমান হাসপাতাল চত্ত্বর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

ধৃতরা রাণা দাস ওরফে সঞ্জু, বিপ্লব দাস, অভিষেক নাথ, সৌম্যদীপ দাস, ঋক অধিকারী, কাশ্মীরা নাথ ও ইন্দিরা দাস। ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের সালানপুরে রাণার বাড়ি। কাটোয়ার কাছারি রোডে বাড়ি বিপ্লবের। হুগলির বলাগড়ের কালিয়াগড়ে বাড়ি কাশ্মীরা ও অভিষেকের। অপর ধৃত সৌম্যদীপ ও ইন্দিরার বাড়ি হাওড়ার বেলুড় থানার শান্তিনগরে। ঋক বর্ধমান শহরের তেলিপুকুরের খেজুরতলার বাসিন্দা। কর্তব্যরত সরকারি কর্মীকে মারধর, কাজে বাধা দেওয়া, বেআইনি জমায়েত প্রভৃতি ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ বৃহস্পতিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করে। ভারপ্রাপ্ত সিজেএম রজনী কাশ্যপ ইন্দিরা ও কাশ্মীরার জামিন মঞ্জুর করলেও বাকিদের বিচার বিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে ২ নভেম্বর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।

- Advertisement -

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে খবর, কাটোয়ার নবগ্রামের বাসিন্দা সত্যনারায়ণ দাস মঙ্গলবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তাঁকে কাটোয়া হাসপাতালে ভরতি করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। রাধারাণি ওয়ার্ডে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। বুধবার বিকেলে তাঁর পরিবারের লোকজন নেবুলাইজেশনের ব্যাপারে ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স অনিন্দিতার কাছে জানতে যান। নার্সের দাবি, কীভাবে নেবুলাইজেশন দিতে হবে তা রোগীর পরিজনদের বেশ কয়েকবার তিনি বুঝিয়ে দেন। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মীকে তিনি রোগীর কাছে পাঠান। রোগীর নাম জানতে চাওয়ায় পরিজনরা তাঁকে জেনে আসার জন্য বলে। এনিয়ে রোগীর পরিজনদের সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে। সেই সময় রোগীর পরিজনরা মোবাইলে ভিডিও রেকির্ডং করছিল। তা বন্ধ করতে বলেন ওই কর্মী। এতে উত্তেজিত হয়ে রোগীর পরিজনরা তাঁকে মারধর করে। তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়। রমা দাস নামে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে মারধর করা হয়। এক মহিলা ঝাড়ুদারকেও মারধর করে রোগীর পরিজনরা। খবর পেয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা ওয়ার্ডে ছুটে যান। তাঁরা রোগীর পরিজনদের আটকে রাখেন। খবর পেয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পের পুলিসও ওয়ার্ডে পৌঁছয়। রোগীর পরিজনদের ধরে হাসপাতালের পুলিস ক্যাম্পে আনা হয়। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে রোগীর পরিজনরা। তাদের দাবি, বারবার বলার পরও রোগীকে ঠিকমতো অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। তাদেরকেই রোগীর নেবুলাইজেশন করার জন্য বলা হয়। এর প্রতিবাদ করায় হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। মোবাইলের ছবি মুছে দেওয়া হয়।