আইপিএল বেটিং চক্রে গ্রেপ্তার ৭ পাণ্ডা

3223

বর্ধমান: পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হল আইপিএল বেটিং চক্রের আরও ৭ পাণ্ডা। শনিবার রাতে আইপিএল খেলা চলাকালীন পূর্ব বর্ধমানের মেমারির থানার পুলিশ মায়েরকোল পাড়ার একটি পরিত্যক্ত সিনেমা হলে হানা দিয়ে তাদের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। একই রাতে আইপিএল বেটিং চক্রে জড়িত অপর এক জনকে বর্ধমানের গোলাহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিশ বেটিং চক্রে জড়িত বাকি সদস্যদেরও খোঁজ চালাচ্ছে।

মেমারি থানার পুলিশ যে ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে তাঁরা হলেন পল্লব মজুমদার, বাসুদেব বিশ্বাস, সমরেশ বিশ্বাস, প্রসেনজিৎ মাঝি, সুদীপ মজুমদার ও বিপ্লব চন্দ্র ধর। ধৃতরা মেমারি থানার ব্রাহ্মন পাড়া, ছিনুই সহ ভরবেনে পুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে বর্ধমান থানার পুলিশ যাকে গ্রেপ্তার করেছে তাঁর নাম শেখ কামালউদ্দিন। বর্ধমানের গোলাহাট এলাকায় বাড়ি।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, ধৃত সাত জনকেই রবিবার পেশ করা হয় বর্ধমান আদালতে। চক্রের কিংপিনদের ধরতে তদন্তকারী অফিসার কামালউদ্দিনকে ৭ দিন নিজেদের হেপাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। এরপর বিচাররক কামালউদ্দিনের তিন দিনের পুলিশি হেপাজত ও বাকি ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে সোমবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার মেমারির মায়ের কোল পাড়া এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সিনেমা হলে বসে কয়েকজন বেটিং চালাচ্ছিল। সেই খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোনও পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। বেটিং চক্রের মূল হোতা চন্দন শেখ ও রাজু সাউকে অবশ্য পুলিশ এখনও ধরতে পারেনি। পুলিশ জানতে পেরেছে তারাই বর্ধমানে বসে বেটিং চক্রের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। মোটা টাকার বিনিময়ে চন্দন ও রাজু অ্যাপসের লগইন আইডি চক্রের বাকিদের হস্তান্তর করে। চক্রের লোকজন আইপিএল ছাড়াও রাজনীতি, অন্যান্য খেলা এবং গানের রিয়েলিটি শো নিয়েও বেটিং চালায়। বেটিংয়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের পাশাপাশি কলকাতার কয়েকজনও বেটিং চক্রে জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

কয়েকদিন আগে মেমারি থানার পুলিশ সুরঞ্জন বিশ্বাস, কালীচরণ সাউ ও পার্থসারথি বিশ্বাস নামে তিন জনকে গ্রেপ্তার করার পরেই বেটিং চক্রের পর্দা ফাঁস হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ জানতে পারে ৫টি অ্যাপসের মাধ্যমে বেটিং চক্রটি চালানো হচ্ছে। ওই ৩ জনকে হেপাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ বেটিংয় চক্রে বাকি ৬ জনের জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারে।

অন্যদিকে বর্ধমান থানার পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় বিশেষ সূত্র মাধ্যমে গোলাহাট এলাকা নিবাসী কামালউদ্দিনের বাড়িতে বেটিং চক্রের আসর বসার ব্যাপারে জানতে পারে। পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে কামালউদ্দিনকে ধরে ফেলতে পারলেও বাকিরা পালায়। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ ৬ হাজার ৫০০ টাকা ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। পাশাপাশি কামালউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে বেটিং চক্রে বর্ধমান শহরের মেহেদি বাগান ও নীলপুরের ২ জন জড়িত রয়েছে। তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছে। বর্ধমান থানার পুলিশ এখন হন্যে হয়ে তাদের খোঁজ চালাচ্ছে।