ইসলামপুর শহরে সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল

অরুণ ঝা, ইসলামপুর : পুজোর মরশুমে ইসলামপুর শহরে বিকল হয়ে রয়েছে ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। মাত্র ৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা এই মুহূর্তে কাজ করছে। স্বভাবতই ইসলামপুর পুলিশ জেলা হওয়ার পর নিরাপত্তার নিরিখে সিসিটিভি ক্যামেরার এই বেহাল দশা একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কারণ, ভৌগোলিক অবস্থানে চিকেন নেক ইসলামপুর আগাগোড়াই স্পর্শকাতর। ফলে মাসের পর মাস সিসিটিভি ক্যামেরা বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেন তা মেরামত করা হয়নি সেই প্রশ্নই বড়ো হয়ে উঠতে শুরু করেছে। ইসলামপুর জেলা পুলিশ সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে পুজোর আগে কমপক্ষে ৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করার আশ্বাস দিয়েছে।

ইসলামপুর বিহার এবং বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় হওয়ায় প্রায়শই দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে ওঠে। ফলে মহকুমা সদর ইসলামপুর শহরের নিরাপত্তার স্বার্থে বছর কয়েক আগে বিভিন্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়। এমনকি ওই সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে বেশ কিছু অপরাধের কিনারাও করা সম্ভব হয়েছে। ধরা পড়েছে অপরাধী। কিন্তু বর্তমানে কয়েক মাস ক্যামেরাগুলি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকায় বড়ো ধরনের অপরাধ ঘটে গেলে ঘটনাক্রম এবং দুষ্কৃতীদের চিহ্নিতকরণ পুলিশের কাছে বড়ো চ্যালেঞ্জ। এমনকি জেলা পুলিশের কনট্রোল রুম থেকে গোটা শহরের উপর নজরদারি চালানোও সম্ভব হয়ে উঠছে না।

- Advertisement -

দুর্গাপুজোর আর কয়েকদিন বাকি। পুজোর কটা দিন শহরে লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল নামবে। তাছাড়া বর্তমানে পুজোর বাজার বেশ জমে উঠতে শুরু করেছে। ছিনতাই এবং চুরিচক্র ফি বছর পুজোর মুখে শহরে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে ৭০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বিকল থাকা পুলিশের পদস্থ কর্তাদের টনক নড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশের অন্দর মহলেও এত ক্যামেরা বিকল নিয়ে চর্চা রীতিমতো চর্চা তুঙ্গে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত ফান্ডের অভাবেই বিকল ক্যামেরাগুলি সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

ইসলামপুর শহরের মাঝখান দিয়ে যাওয়া ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক সহ পুর বাস টার্মিনাসে কয়েকটি ক্যামেরা মাত্র সচল রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, মাসের পর মাস কোন যুক্তিতে বিকল অবস্থায় ক্যামেরাগুলি ফেলে রাখা হয়েছে? নিরাপত্তার স্বার্থ জড়িত থাকলেও এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নীরব কেন? দামি ক্যামেরাগুলি এত তাড়াতাড়ি বিকল হয়ে গেল কী করে? এ প্রসঙ্গে ইসলামপুরের পুলিশ সুপার শচীন মক্কর বলেন, প্রায় ৭০টি ক্যামেরা বিকল রয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। মাত্র ৪ থেকে ৫টি ক্যামেরাই কাজ করছে। ইতিমধ্যে পরিবহণ দপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা ফান্ডের জন্য আবেদন করেছি। পুজোর আগে অন্তত ৫০টি ক্যামেরা যাতে সচল করা যায় সেই চেষ্টা চলছে।