গাজোলে নতুন করে আরও ৮ জন করোনা আক্রান্ত

485

গাজোল: নতুন করে আরও ৮ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলল গাজোলে। এঁদের মধ্যে গত শনিবার গাজোল হাসপাতালে ১০০ জনের লালা সংগ্রহ করা হয়েছিল তার মধ্যে ৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। অন্যদিকে মালদায় পরীক্ষা করা একজনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, হাসপাতালে সাফাইকর্মী এবং সিভিক ভলান্টিয়ার। এছাড়াও একজন বৃদ্ধ এবং একজন শিশুও রয়েছে আক্রান্তের তালিকায়।

এদিন যে তালিকা পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে গাজোলের শংকরপুর এলাকায় সংক্রমিত এক ব্যক্তির পরিবারের ৩ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও ওই এলাকারই একজন প্রাথমিক শিক্ষক এবং তার মা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের তালিকায় রয়েছে গাজোল গ্রামের হাসপাতালের এক সাফাইকর্মী। গাজোলের সাহাজাদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নোয়াপাড়া গ্রামের এক সিভিক ভলান্টিয়ার আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও রবীন্দ্রপল্লী (কচুয়া) এলাকার একজন ইলেকট্রিশিয়ান আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে গাজোল ব্লকে এখনও পর্যন্ত সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১৭ জন।

- Advertisement -

টেস্ট শুরু হতেই একের পর এক করোনা আক্রান্তের হদিস মিলছে গাজোলে। তবে নতুন করে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা প্রায় কেউই পরিযায়ী শ্রমিক নন। সকলেই স্থায়ী বাসিন্দা, তারা প্রত্যেকেই যুক্ত চাকরি, ব্যবসা সহ নানা ধরনের কাজে। তবে বিভিন্ন সূত্র মারফত যে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে তাতে জানা যাচ্ছে করণা সংক্রমিত দের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের অনেকেই পরীক্ষা করাচ্ছেন না। যার ফলে উপসর্গবিহীন আরো বহু করোনা আক্রান্ত রয়ে গেছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গাজোলবাসীরা। আমজনতার দাবি যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন তাদের তালিকা তৈরি করে লালা পরীক্ষা করা হোক।

গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে দুইজন ডাক্তার সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে করোনা সংক্রমিত এক রোগী হাসপাতালের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে হাসপাতালের সুপার সহ অন্যান্য চিকিৎসকদের লালা পরীক্ষা করা হোক। প্রয়োজনে অন্যান্য চিকিৎসকদের মতো তাদেরও হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হোক। এছাড়াও দমকল কে দিয়ে সঠিকভাবে হাসপাতাল স্যানিটাইজ করা হোক। তা না হলে হাসপাতাল থেকেই রোগী এবং তাদের পরিবারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা। এদিকে গত সপ্তাহ থেকে চলা অনির্দিষ্ট কালের আংশিক লকডাউন চলছে গাজোলে। সকাল ছ’টা থেকে দশটা পর্যন্ত খোলা থাকছে মাছ এবং সবজি বাজার। বেলা দুটো পর্যন্ত খোলা থাকছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান। আংশিক লকডাউন কার্যকর করতে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করেছে গাজোল থানার পুলিশ।