রাজ্যপালের সংশাপত্র দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৮

43

বর্ধমান: রাজ্যপালের সংশাপত্র দেখিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বেকার ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে চলছিল কোটি কোটি টাকার প্রতারণা। এক প্রতারিতের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ চক্রের ৮ গ্রেপ্তার করে মূল পাণ্ডা দেবকুমার চট্টোপাধ্যায়ের খোঁজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে এই প্রতারণা চক্রের জাল বহুদূর বিস্তৃত রয়েছে, যোগ সাজোস রয়েছে রাজনীতিকদেরও।

পুলিশ জানিয়েছে , ধৃতরা মিহির কুমার দাস, আলি হোসেন, হাসিবুল রহমান, আবুল বাসদ, রিয়াজুল ইসলাম, ইব্রাহিম শেখ, শ্যামসুল আলম ও মলয় কর্মকার। ধৃতদের মধ্যে প্রথম ছয় জন মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। বাকিদের মধ্যে শ্যামসুল
বীরভূম জেলার নলহাটি থানার গোপালচক ও মলয় কর্মকার হুগলীর সিঙ্গুর থানার জগতনগর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি ধৃতদের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল ফোন, ৩টি পেনড্রাইভ,৭টি স্ট্যাম্প, অশোকস্তম্ভের ছাপ সহ বেশ কিছু নথিপত্র-ফর্ম, কয়েকটি রেজিস্টার খাতা, নগদ ১লক্ষ ১০ হাজার ৫০০ টাকা, সংবাদপত্রে দেওয়া বিজ্ঞাপনের কপি এবং একটি দামি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠানো চিঠি, পথ-সুরক্ষা নিয়ে রাজ্যপালের শংসাপত্রও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। মঙ্গলবার ৮ ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে তদন্তের স্বার্থে মিহির দাস, আবুল বাসার ও মলয় কর্মকারকে ৫ দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। বাকিদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায় জানিয়েছেন, ধৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হয়েছে কলকাতার নিমতা থানার বিরাটিতে তাঁদের প্রাধন অফিস। জনৈক দেবকুমার চট্টোপাধ্যায় ওই সংস্থার প্রধান। ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে প্রতারণার সবিস্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা চক্রটিকে ধরার চেষ্টা চলছে।