৮০ শতাংশ চিকিৎসক ছুটিতে, টালমাটাল অবস্থা রায়গঞ্জ মেডিকেলে

79

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ছুটিতে চলে গিয়েছেন চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ। এর ফলে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কল করেও পাওয়া যাচ্ছে না, এমনটাই অভিযোগ রোগীর পরিজনদের। যদিও করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে একটি সরকারি নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই চলে এসেছে, তাতে কোনও চিকিৎসকেরই স্টেশন লিভ করার কথা নয়। কিন্তু সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই প্রায় ৮০ শতাংশ  চিকিৎসক এই মুহূর্তে রায়গঞ্জ শহরের বাইরে। কেউ ঘুরতে গিয়েছেন, কেউ বা কলকাতার বাড়িতে ফিরেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছুটির আবেদনও জমা পড়েনি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায়কে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর বক্তব্য, আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ কড়া মনোভাব পোষণ করেছেন। চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা নিজের হেপাজতে রেখে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের লাল কালি দিয়ে অনুপস্থিত লিখে দিচ্ছেন।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় পরিষেবা কার্যত দায়সারাভাবেই চলছে। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগ সহ একাধিক বিভাগে ৮০ শতাংশ চিকিৎসক নেই। যেখানে হাসপাতালে প্রায় ২৩০ জন চিকিৎসক রয়েছেন, সেখানে গরহাজির প্রায় ১৮৫ জন চিকিৎসক। এঁদের অধিকাংশই ছুটি না নিয়ে চলে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিন শয়ে শয়ে রোগী আসছেন রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন হলেও সময়মতো সেই চিকিৎসকও পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, মূলত চিকিৎসকরা এখানে তাঁদের খেয়ালখুশি মতো ছুটিতে চলে যান এবং খেয়ালখুশি মতো আসেন। নজরদারি শুধু নামকেওয়াস্তেই চলে।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পাঁচতলায় করোনা সংক্রামিত রোগীদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে বেড রয়েছে ৩৩টি। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের পুরোনো সিসিইউ বিভাগে ১৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের শল্য বিভাগ, অস্থি বিভাগ, ইএনটি বিভাগ, মেডিসিন বিভাগ, বার্ন ইউনিট, চক্ষু বিভাগ, দন্ত বিভাগ সহ একাধিক বিভাগে দুএকজন চিকিৎসক থাকলেও বাকিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘুরতে চলে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নোডাল অফিসার বিপ্লব হালদারের অবশ্য দাবি, পরিষেবায় কোনও ঘাটতি নেই। ৮০ শতাংশ চিকিৎসক না থাকলেও পরিষেবায় কোনও খামতি হচ্ছে না। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের কি নিজের পরিবার নেই? তাঁরা কি বাড়িতে যেতে পারবেন না? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল কলেজের এক আধিকারিক বলেন, সাতদিন পর পর চিকিৎসকরা পালা করে মেডিকেল কলেজে আসেন। যদিও তাঁরা এক মাসের অ্যাটেনডেন্স খাতায় সই করে ফেলেন।