তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যর বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ৯ বিজেপি কর্মী

440

বর্ধমান: তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যর বাড়িতে চড়াও হয়ে মারধর, ভাঙচুর ও লুঠপাট চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৯ জন বিজেপি কর্মী। বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার ভেড়িলি গ্রামের ঘটনা। আক্রান্ত পঞ্চায়েত সদস্যর স্ত্রী বুধবার রাতে ১২ জন বিজেপি নেতা-কর্মীর নামে জামালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রাতে অভিযান চালিয়ে ৯ বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে এই ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ভেড়িলি গ্রাম। এলাকায় জারি রয়েছে পুলিশ টহল।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম পরেশ মালিক, মনোজ সাহানী, গোপাল সাহা, তাপস কর্মকার, সুভাষ মালিক, সুরজিৎ কপাট, সুমন সাঁতরা, স্বপন কপাট ও কালু সিং। ধৃতদের বেশির ভাগজনের বাড়ি জামাপুরের আঝাপুর পঞ্চায়েতের ভেড়িলি গ্রামে। কয়েকজনের বাড়ি ভেড়িলি সংলগ্ন মসাগ্রাম বাজারে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করলে ভারপ্রাপ্ত সিজেএম জেল হেপাজতে পাঠিয়ে শুক্রবার ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ পলাতক বিজেপি নেতা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, বিজেপি কর্মী অরুণ পাত্র ও সুরেশ ক্ষেত্রপালের খোঁজ চালাচ্ছে।

- Advertisement -

ভেড়িলি গ্রামেই বাড়ি আঝাপুর পঞ্চায়েতের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সুজিত মজুমদারের।তাঁর স্ত্রী সরস্বতী মজুমদার আঝাপুর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য। থানায় লিখিত অভিযোগে সরস্বতীদেবী জানিয়েছেন, “বুধবার লকডাউনের দিন সন্ধ্যা নাগাদ তিনি ও তাঁর স্বামী বাড়িতে বসে ছিলেন। ওই সময়ে আঝাপুর নিবাসী বিজেপি নেতা আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির ১২ জন দুস্কৃতী পাঁচিল টপকে তাঁদের ঘরে ঢুকে পড়ে। ওই বিজেপি নেতা ও কর্মীদের সকলের হাতে ছিল রড ও বাঁশের লাঠি।

সরস্বতীদেবী বলেন, ঘরে ঢুকে পড়েই বিজেপি কর্মীরা তাঁর স্বামীকে প্রচণ্ড মারধোর শুরু করেদেয়। কয়েকজন বিজেপি কর্মী তাঁর বাড়িতেও ভাঙচুর শুরু করে দেয়। এমনটা দেখে তিনি স্বামীকে বাঁচাতে যান। তখন মনোজ সাহানী ও অপর কয়েকজন বিজেপি কর্মী তাঁকেও বেপরোয়া মারধোর শুরু করে। তারা তাঁর শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করে।

সরস্বতীদেবী জানান, বিজেপি কর্মীদের মারধর ও ঘৃণ্য আচরণ সহ্য করতে না পেরে তিনি চিৎকার শুরু করলে বিজেপি কর্মীরা তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। তারই মধ্যে তাঁর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাঁদের বাড়িতে ছুটে আসে। সেই সময়ে পালানোর প্রস্তুতি নেয় বিজেপি কর্মীরা। সরস্বতীদেবীর অভিযোগ পালানোর সময়ে বিজেপি কর্মীরা তাঁর এক কানে থাকা সোনার একটি দুল ছিনিয়ে নেয়। এছাড়াও ঘরে থাকা নগদ বেশ কিছু টাকা বিজেপি কর্মীরা লুঠ করে নিয়ে পালায়।”

জামালপুর ব্লক তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মেহেমুদ খান বলেন, ‘বিজেপি সন্ত্রাস করে অন্য রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেছে। একই ভাবে বিজেপি পশ্চিম বাংলাতেও সন্ত্রাস সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। তাই ভেড়িলি গ্রামের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যর বাড়িতে চড়ও হয়ে মারধর, ছিনতাই ও লুঠপাটের ঘটনা ঘটিয়েছে বিজেপি কর্মীরা। প্রশাসন আইন মাফিক তার ব্যবস্থা নিয়েছে।’

যদিও জামালপুরের বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি অজয় ডকাল বলেন, ‘পুলিশ তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ মত কাজ করছে। তাই মঙ্গলবার রাতে ভেড়িলি এলাকা নিবাসী বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রত শেঠকে তৃণমূল কর্মীরা মেরে হাত ও পা ভেঙে দিলেও পুলিশ সকল অভিযুক্তকে এখনও গ্রেপ্তার করেনি। ৭ অভিযুক্তের মধ্যে মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ দায় সেরেছে। অজয়বাবু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি কার্যকর্তা দেবব্রত শেঠকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে জখম করার বদলা বিজেপি নেবে। তৃণমূলের সন্ত্রাসের জবাব বিজেপি সন্ত্রাসের পথেই নেবে বলে তিনি জানিয়েদেন।’