উত্তর দিনাজপুরে করোনা যোদ্ধা সহ আক্রান্ত ৯, সংক্রামিত হয়ে মৃত এক

451
ফাইল ছবি।

রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। এবার জেলায় খোদ কোভিড যোদ্ধাদের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ১ জন নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, ৩ জন নার্স, জেলা প্রশাসনের ৩ আধিকারিক সহ মোট ৯ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি এদিন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। তাঁর বাড়ি ইসলামপুর মহকুমার পাঞ্জিপাড়া এলাকায়। এখনও পর্যন্ত জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৬১০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩৯০ জনই সুস্থ হয়েছেন।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, রায়গঞ্জের কোভিড হাসপাতালের নার্সিং সুপারিনটেনডেন্টের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। রবিবার দুপুরে তাঁর লালার নমুনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এদিনই রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তিনজন নার্সের শরীরে করোনা সংক্রমণের হদিস মিলেছে। তাঁদের কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় অবস্থিত জেলা প্রশাসনিক ভবনের তিন আধিকারিকও সংক্রামিত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তাঁদের কলকাতায় নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

সেইসঙ্গে এক কিশোরী ও বৃদ্ধাও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের অস্থায়ী আইসিইউ থেকে করোনা আক্রান্ত ১৫ বছরের ওই কিশোরী ও ৭০ বছরের বৃদ্ধাকে কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

করোনা সংক্রামিত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বাড়ি ইসলামপুর মহকুমার পাঞ্জিপাড়া এলাকায়। মৃতের নাম জাবেদ খান (৬০)। শনিবার ইসলামপুর কোভিড হাসপাতাল থেকে তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে যান তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এদিন সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সিসিইউ বিভাগ, ডায়ালিসিস বিভাগ সিল করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেডিকেল কলেজের প্রশাসনিক ভবন। জেলা প্রশাসনিক ভবন এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত বন্ধ করা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ রুখতে রায়গঞ্জ শহরে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে। এদিন রায়গঞ্জ থানার পুলিশ কমব্যাট ফোর্স নিয়ে শহরের বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় অভিযান চালায়। তবে সেভাবে মানুষকে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়নি। যদিও শহর সংলগ্ন এলাকায় বাসিন্দাদের অবাধে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছে।

রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, ‘রায়গঞ্জ শহরের গ্রামীণ এলাকায় সাতদিনের লকডাউনের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই তা কার্যকর করা হবে। গ্রামীণ হাটগুলিতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষ যাতে চলাচল করেন, সেজন্য গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের তরফে মাইকে সচেতনতামূলক প্রচার করা হচ্ছে।‘