কোচবিহারে উচ্চমাধ্যমিকের ৯০০ পরীক্ষার্থীর হদিস নেই 

289
ফাইল ছবি।

কোচবিহার : ২০২১ সালে কোচবিহার জেলায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে যাওয়া প্রায় ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর হদিস করতে পারছে না কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর। দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বাংলা শিক্ষা পোর্টালের অনলাইনে আপলোড করতে হবে। তা করতে গিয়ে এই তথ্য সামনে এসেছে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর থেকে একাধিকবার ফোন করেও ওই পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনওরকমভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত প্রায় সব জেলাতেই করোনা পরিস্থিতির পর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়াদের নিয়ে জেলা শিক্ষা দপ্তর সমস্যায় পড়ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, লকডাউন পর্বে গ্রামাঞ্চলের বহু পরীক্ষার্থী স্কুলছুট হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি চাকুলিয়ায় ট্যাব দিতে পড়ুয়াদের খোঁজে গ্রামে গ্রামে শিক্ষকরা ঘুরছেন । সেখানেও পড়ুয়াদের ফোন নম্বরে ফোন করে সাড়া মিলছে না।

কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) কানাইলাল দে বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর আপলোড করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে আমরা ৮৯৫ জন পরীক্ষার্থীকে খুঁজে পাচ্ছি না। একাধিকবার ফোন করেও তাদের সঙ্গে আমরা এখনও পর্যন্ত যোগাযোগ করে উঠতে পারিনি। আশা করছি আগামী দুই-তিনদিনে আরও কয়েক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব।  কোচবিহার জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক মিলিয়ে প্রায় ২৬৮টি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক স্কুল রয়েছে দুই শতাধিক। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর জানিয়েছে, ২০১৯ সালে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল, স্কুলগুলির দেওয়া সেই হিসাব অনুযায়ী, জেলা থেকে এবার মোট উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে ২৮ হাজার ৫১৬ জন। রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী এই সমস্ত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বাংলা শিক্ষা পোর্টালে অনলাইনে আপলোড করতে হবে। প্রাথমিকভাবে আগামী ৬-৭ জানুয়ারির মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলার নির্দেশ রয়েছে। তা করতে গিয়ে ৪ জানুয়ারি দুপুর পর্যন্ত কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর ২৭ হাজার ৬২১ জন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর আপলোড করতে পেরেছে। কিন্তু বাকি পরীক্ষার্থীদের গত কয়েকদিন ধরে একাধিকবার ফোন করেও তাদের সঙ্গে কোনওভাবে যোগাযোগ করতে পারছে না দপ্তর। হয় তাদের ফোন সুইচড অফ, না হলে পরিষেবা সীমার বাইরে বলছে।

- Advertisement -

বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর কর্তৃপক্ষের ধারণা, হতে পারে হদিস না পাওয়া এই পরীক্ষার্থীরা হয় লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে বা কাজের জন্য কেউ বাইরে চলে গিয়েছে। আবার বেশ কিছু মেয়ের বিয়ে হয়ে যেতে পারে। তবে শুধু পরীক্ষার্থীদের হদিস না পাওয়াই সমস্যা নয়, এর পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর আবার চেক করতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও প্রধান শিক্ষকদের। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশ রয়েছে মোট পরীক্ষার্থীর অন্তত ৩৫ শতাংশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর পুনরায় চেক করতে হবে। এর মধ্যে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে ৫ শতাংশ, অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে ১০ শতাংশ ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের ২০ শতাংশ রি-চেক করতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর জানতে চেয়ে বিভিন্ন প্রতারকচক্র জাল পেতেছে। তারা গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস নিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁদের টাকা তুলে নিয়েছে। এতে মানুষ এখন অনেকটাই সতর্ক। ফলে কেউ কোনও কিছু নিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর জিজ্ঞাসা করলেই অধিকাংশ মানুষ অন্যরকম সন্দেহ করছেন। আর এক্ষেত্রেও ডিআই, এসআই, প্রধান শিক্ষকদের এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেকে না বুঝে ফোনে কটূক্তি করছেন। সব মিলিয়ে এর ফলে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বলেন, পরীক্ষার্থীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর খোঁজ করতে গিয়ে আমাদের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।