পঁচানব্বইয়ের বিনোদিনীর দিন কাটে ৫ বাড়ির কাজে

0
518

শিলিগুড়ি : পাঁচ বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান পঁচানব্বইয়ের বৃদ্ধা। বাড়ি বাড়ি কাজ করে আয় করা মাসিক দুহাজার টাকাই এখন বাঁচার রসদ রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা বিনোদিনী বর্মনের। স্বামী মারা গিয়েছেন বহু বছর আগে। আশ্রয় বলতে রয়েছে একমাত্র ছেলে। কিন্তু দায়িত্ব থেকে হাত গুটিয়েছে সেও। বাড়ি বাড়ি কাজ করে অর্থ উপার্জন এখন সম্বল হয়েছে তাঁর। বার্ধক্য এতটাই ছুঁয়েছে য়ে, চোখের ষাট শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। দুবছর ধরে শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়ির গ্যারাজ ভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে সেটিকে ঘর বলে যদিও মনে হবে না। ঘরের ভেতরে বাসা বেধেছে মাকড়সা। কোথাও ছাদ ফুটো হয়ে চুইয়ে পড়ছে বৃষ্টির জল। বিদ্যুৎ নেই, কুপির আলোতে রাত কাটে তাঁর। স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় এক-দুবার বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ার কথা হলেও পরে আর কেউ কোনো খবর দেয়নি বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধা।

চ্যাংরাবান্ধার বাসিন্দা বিনোদিনীদেবী বছর ত্রিশ আগে নাতনিকে নিয়ে আসেন শিলিগুড়িতে। তখন থেকেই পেট চালানোর জন্য বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করেন। কোথাও মাসিক পঞ্চাশ টাকা আবার কোথাও একবেলা খাবারের বিনিময়ে কাজ করেছেন তিনি। এখন পাঁচটি বাড়িতে কাপড় ধোয়া, বাসন মাজা, ঘর মোছা সব রকমেরই কাজ করে থাকেন তিনি। মাসিক আয় বলতে সব মিলিয়ে পান মাত্র দুহাজার টাকা। তার থেকে পাঁচশো টাকা বাড়ি ভাড়া দেন এবং বাকি টাকা নিজের জন্য রাখেন। বিনোদিনীদেবী বললেন,চ্যাংরাবান্ধায় থাকাকালীন কৃষিকাজ করে দিন কাটত। চোখের সামনে অসুখে স্বামী, দুই ছেলে ও পুত্রবধূ , এক নাতিকে মারা যেতে দেখেছি। ছোটো ছেলের অত্যাচারে এক নাতনিকে নিয়ে বাঁচার জন্য  শিলিগুড়ি চলে আসি। তারপর থেকেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে কাজ করছি। টাকা জমিয়ে বিয়ে দিয়েছি নাতনিরও। সবাই এখন নিজের সংসারে ব্যস্ত। তিনি আরও জানান, কাজ না করে কারও কাছে হাত পেতে টাকা নিতে লজ্জা লাগে। তাই কষ্ট করে খেটে খাই। কাজ না করলে বাড়ি ভাড়া, নিজের খাবার, ওষুধ এত টাকা পাব কোথায়?