পায়রার মৃত্যু নিয়ে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ পক্ষীপ্রেমীর

203

বর্ধমান: বাড়ির ছাদে পায়রা ও ঘুঘু পাখির ঘোরাফেরা মেনে নিতে পারেন নি এক বাড়ির মালিক। তাই ছাদের গাছের টবে বিষাক্ত কিছু দিয়ে রেখে নিরিহ পাখিদের প্রাণে মারার অভিযোগ উঠল ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বুধবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় শহর বর্ধমানের নীলপুর কমলাদিঘি পাড় এলাকায়। পাখিদের মৃত্যুর জন্য এলাকার বাসিন্দা নিরুপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন প্রতিবেশী শান্তনু দাস। পাখিদের প্রাণে মেরে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে বর্ধমানের একাধিক পশু পক্ষীপ্রেমী সংগঠন।

নীলপুর কমলাদিঘি পাড় এলাকার বাসিন্দা শান্তনু দাস জানিয়েছেন, বহুদিন হল তিনি তাঁর বাড়ির ছাদে পাখিদের বসবাস করার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তাঁর মধ্যে তাঁর পোষা কয়েকটি পায়রাও রয়েছে। কিছু ঘুঘু পাখিও ওই বাসায় এসে থাকা শুরু করে। প্রতিদিন সকালে তিনি ওইসব পাখিগুলি ছেড়ে দেন। পাখিরা নিজেদের খুশি মতো  উড়ে বেড়ায়। পাখিগুলি তাঁর বাড়ির ছাদে এবং তাঁর প্রতিবেশীদের বাড়ি ছাদে উড়ে গিয়ে বসত। অন্যরা তা নিয়ে ক্ষুব্ধ না হলেও আপত্তি ছিল তাঁর প্রতিবেশী নিরূপ কুমার দাসের। তিনি তাঁর বাড়ির ছাদে পাখিদের আনাগোনা মেনে নিতে পারেন নি। নিরূপ বাবু অভিযোগ তোলেন পাখিরা তাঁর বাড়ির ছাদ নোংরা করে।

- Advertisement -

শান্তনু বাবু জানান, গত রবিবার তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে বাড়ি ফিরে তিনি ৬টি পায়ারকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। বাকি পায়রাগুলির কোনও খোঁজ তিনি পান না। তাঁর অভিযোগ, বাড়ির ছাদে থাকা গাছের টবে নিশ্চয়ই বিষ দিয়ে রেখেছিলেন তাঁর প্রতিবেশী নিরুপ রায়। তার কারণেই পায়রাগুলি মারা গিয়েছে। ঘটনার বিহিত চেয়ে ও প্রতিবেশীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শান্তনু বাবু বর্ধমান থানার অভিযোগ জানিয়েছেন।

বর্ধমান থানার আইসি সুখময় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত হচ্ছে। মৃত পায়রাগুলি উদ্ধার করে পশু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।