মালদা শহরে শিশু উদ্যান খুলে দেওয়া হল

কল্লোল মজুমদার, মালদা : রাজ্য সরকারের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই খুলে দেওয়া হল শুভঙ্কর শিশু উদ্যান। মালদা শহরের এই পার্কটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। শুধু শিশুরাই নয়, কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী সহ তাদের অভিভাবকরাও পার্কে ছুটে যান বিনোদনের টানে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই পার্ক খুলে দেওয়ায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন কর্তৃপক্ষ। যদিও পুর প্রশাসক জানিয়েছেন, পার্কটি খুলে দিয়ে খুব অন্যায় কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

মালদা শহরের প্রশাসনিক ভবন, আদালত সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তর সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে শুভঙ্কর শিশু উদ্যান। এই উদ্যান উত্তরবঙ্গের অন্যতম সুন্দর এবং বিনোদনের জায়গা। উদ্যানে শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা সহ টয় ট্রেন, ফোয়ারা রয়েছে। রাতে আলোকমালায় ঝলমলিয়ে ওঠে পার্কটি। কিন্তু করোনা সংক্রমণের জেরে প্রথম থেকেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে গত দুতিনদিন আগে থেকে এই পার্কটি খুলে দেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটা বাজতে না বাজতে উপচে পড়ছে ভিড়। মালদা শহরের একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র এই পার্কে শুধু শহরের মানুষজনই নন, গ্রামাঞ্চল থেকেও শিশু, কিশোররা সহ বহু মানুষ এদিন ভিড় জমান। অথচ এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যজুড়ে বিকেল পাঁচটার পর লকডাউন শুরু হয়ে যাচ্ছে। সমস্ত দোকানপাট যখন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তখন খুলে দেওয়া হচ্ছে এই পার্ক। শুধু খুলে দেওয়াই হচ্ছে না, মানা হচ্ছে না কোনও নিয়মকানুন।

- Advertisement -

পার্কে গিয়ে দেখা গেল যাঁরা এসেছেন, তাঁদের অধিকাংশেরই নেই মাস্ক। এই পার্কে তিনটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। অথচ কোনও প্রবেশদ্বারেই দেখা মেলেনি সামান্যতম সচেতনতা। সরকারি নিয়ম মেনে ব্যাংক, আদালত কিংবা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর খোলা থাকলেও সেখানে মানা হচ্ছে একাধিক নিয়ম। বহু দপ্তরের সামনেই যেমন স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তেমনই কোথাও কোথাও করা হচ্ছে থার্মাল স্ক্রিনিং। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মাস্ক ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ শুভঙ্কর শিশু উদ্যানে এইসবের কোনও ব্যবস্থাই রাখেননি কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এদিন শুভঙ্কর শিশু উদ্যানে দল বেঁধে ঘুরতে এসেছিল রফিক, আজিজুর, সফিকুলরা। প্রশ্ন করতেই রফিকুল জানায়, পার্ক খোলা দেখে আমরা ঢুকে পড়েছি। পার্ক খোলা না থাকলে ঢুকতাম না। মালদা শহরে এই পার্কই একমাত্র বিনোদনের জায়গা। পার্কে এসেছিলেন কলেজ ছাত্রী রিয়া, সুষমা, অভিষিক্তারা। ওঁদের কথায়, মাস্ক ছাড়া ঢুকতে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইংরেজবাজার পুরসভার পুরপ্রশাসক তথা বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে যাঁরা এই পার্কটি খুলে দিয়েছেন, তাঁরা খুব অন্যায় করেছেন। কাল থেকে যাতে পার্ক বন্ধ রাখা হয়, সেই ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সদর মহকুমা শাসক সুরেশকুমার রানো জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। যথায়থ পদক্ষেপ করা হবে। অন্যদিকে, শহরের সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, পার্ক খুলে দেওয়ার অর্থ মালদা শহরে দ্রুতগতিতে করোনা সংক্রমণ বাড়বে। অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা দরকার। কারণ, যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরীদের সঙ্গে বহু শিশুও পার্কে যায়। তাদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে। অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।